নবীন চৌধুরী
স্কুলের বন্ধুদের মধ্যে সুমন বলে উঠল, সোহেল তুই খুব সাহসী। তোকে আমরা পরীক্ষা করব দেখি, তুই কেমন সাহসী। আমাদের গ্রামে দুলু মিয়ার একটি হাতি আছে। তুই ওই হাতিটির সামনে যাবি এবং হাতিটির গায়ে চড়ে বসবি। সুমনের কথায়, সোহেল বলে উঠল, অবশ্যই পারব। এইটা কোনো ব্যাপারই না। সোহেলের কথায়, স্কুলের অন্যান্য বন্ধুরা বলে উঠল, মনে হয় না বন্ধু তুই দুলু মিয়ার হাতিটির সামনে যেতে পারবি। সোহেল বলল, তাহলে তোদের সাথে আমার বাজি হয়ে যাক। আর যদি যেতে পারি হাতিটির সামনে। তাহলে আমাকে কী দিবি। বন্ধুরা বলে উঠল, তোকে আমরা ৫০০ টাকা দিবো। যদি তুই বাজিতে জিতিস। সোহেল বলল, ঠিক আছে কালকে সকাল বেলায় প্রমাণ হবে যে, দুলু মিয়ার হাতিটির কাছে যেতে পারি কিনা? ওই দিনের মতো স্কুল করে যার যার বাড়ির দিকে চলে গেল। সুমন বাড়ির দিকে যাচ্ছিল যখন, তখন সোহেলের বাজির ধরার বারবার মনে পড়ছে। জানে সে, সোহেল অত্যন্ত সাহসী এবং জিদি স্বভাবের। এছাড়া চালকও বুদ্ধিমান বটে। আবার ভাবে পারবে তো দুলু মিয়ার হাতিটির কাছে যেতে। যাক সেসব কথা কালকেই দেখা যাবে।
এদিকে দিয়ে সোহেল স্কুল থেকে বাড়িতে এসে বারবার চিন্তা করছে। কালকে সকালে দুদু মিয়ার হাতিটির কাছে যেতে হবে আমাকে। এছাড়া বন্ধুদের মধ্যে বাজি হয়ে গেছে। তাছাড়া আর যদি না পারি যেতে হাতিটির কাছে। তাহলে আমার সাহস ও বুদ্ধির তারিফটা ক্ষুণœ হয়ে যাবে তাদের সামনে। এসব নিয়ে চিন্তা করছে।
হঠাৎ তার মনে পড়ে গেল যে, হাতির প্রিয় খাদ্য কলাগাছ। এছাড়া দুলু মিয়া হাতিটিকে দোলন নামে ডাকতে দেখেছে এবং লোহার খুঁটি দিয়ে তৈরি লাঠি দেখেছে হাতে। যা দ্বারা হাতিটি ভয় পেয়ে থাকে। এভাবেই আমাকে এসব কাজ করতে হবে দুলু মিয়ার মতো।
এদিকে সোহেল মনে রেখেছে দুলু মিয়ার মতোই সে কাজ করবে। বন্ধুরা বলল, বন্ধু তোমার কথা ও বাজি অনুযায়ী কাজ করো। সোহেলে সামনে গেল হাতিটির কাছে। সাথে নিয়ে গিয়েছিল কলাগাছ ও লোহার খুঁটি দিয়ে বানানো লাঠি। সোহেল সত্যি সত্যি হাতিটির সামনে গেল। এরপর বাজি অনুযায়ী হাতির সামনে গিয়ে কলাগাছ দিলো। হাতে লাঠি নিয়ে দোলন বলে ডাকল, পা বাড়াও তোমার পিঠে উঠব। হাতিটি পা বাড়িয়ে দিলো। অমনি সোহেল হাতিটির পিঠে উঠল। আর সব বন্ধুরা হাতেতালি দিতে শুরু করে দিলো। বলে উঠল শাবাশ। সোহেল তুই জিতে গেছিস। বন্ধুরা সোহেলের সাহস দেখে আশ্চর্য হয়ে গেল। বিরাট বড় দেহবিশিষ্ট হাতিটির কাছে গেল কিভাবে? বুদ্ধি করে এসব পন্থা অনুসরণ করছি বলে কোনো বিপদ হয়নি।
সুমন ভাবছে শুধু, কিভাবে সোহেল হাতিটির সামনে গেল। সুমন বলল, সোহেল হয়েছে তোমার সাহসিকতা বুদ্ধির পরিচয়। সোহেল এরপর হাতিটির কাছ থেকে এসে বন্ধুদের সামনে এলো। আবারও বন্ধুরা সোহেলের পিঠে হাত বুলিয়ে বলে উঠল, সত্যি তোর সাহস আছে। বাজি অনুযায়ী বন্ধুরা মিলে ৫০০ টাকা দিয়ে দিলো সোহেলকে। সবাই যার যার মতো বাড়ি চলে গেল। বন্ধু সুমন ও সোহেলের এক সাথে বাড়ির দিকে যাবার সময় সুমন বলল, সোহেল, তুই এতবড় হাতিটির সামনে কীভাবে গেলি। আমার জানতে ইচ্ছে হচ্ছে। মনে হয়েছিল জাদুবিদ্যা জানিস। সোহেল বলল, বন্ধু জাদু জানি না। বুদ্ধির বলে ও সাহসের কারণে হাতিটির কাছে গেছি। কী বুদ্ধির বলে? সোহেল বলল, আমি যখন হাতিটির কাছে যাই তখন আমি হাতির প্রিয় খাদ্য হিসেবে কতকগুলো কলাগাছ, লোহার খুঁটির একটি লাঠি নিয়ে গিয়েছিলাম। এছাড়া দুলু মিয়া যেভাবে হাতির নিজ মালিক হিসেবে ডাকে দোলন বলে- আমি সেই সেভাবে অভিনয় তৈরি করে হাতিটির কাছে গিয়ে ডাকি এবং কলাগাছ খেতে দেই। এরপর লোহার খুঁটির একটি লাঠি দেখাই হাতিটিকে। হাতিটি মনে করে কোনো কিছু করলে আমাকে পিটাবে লাঠি দিয়ে। এতসব বুদ্ধির আশ্রয় নিয়ে গিয়েছিলাম। এজন্য হাতিটি আমাকে কিছু বলেনি। তোমাদের বাজিতে আমি বিজয় লাভ করি এভাবে। সুমন বলে উঠল, সত্যিই বন্ধু সোহেল, তোর চালাকি ও বুদ্ধির তারিফ না করে পারছি না।



