- ৩০০ উপজেলায় পুষ্টিচাল বিতরণের সিদ্ধান্ত
- খাদ্য মজুদ ১৫ লাখ টনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত
দেশের দরিদ্র ও অতি-দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দেশের ৩০০টি উপজেলায় ৬টি অত্যাবশ্যকীয় ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ ‘পুষ্টিচাল’ (ফর্টিফাইড রাইস) বিতরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। একই সাথে দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা সুসংহত করতে স্বাভাবিক ও দুর্যোগকালীন সময়ের জন্য সরকারি নিরাপত্তা মজুদের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ১৫ লাখ মেট্রিক টনে নির্ধারণ করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের সভায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদসহ কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও নীতি-নির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।
খাদ্য মন্ত্রণালয় জানায়, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দেশের ৫৫ লাখ গ্রামীণ দরিদ্র পরিবারকে প্রতি কেজি ১৫ টাকা মূল্যে মাসে ৩০ কেজি করে ৬ মাসে মোট ৯ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে অপুষ্টি দূরীকরণে ৩০০টি উপজেলায় সাধারণ চালের পরিবর্তে ভিটামিন-এ, বি১, বি১২, ফলিক এসিড, আয়রন ও জিংক মিশ্রিত পুষ্টিচাল দেয়া হবে। সভায় খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা মজুদ নীতিমালায় বড় পরিবর্তন এনে স্বাভাবিক সময়ে ১৪ লাখ মেট্রিক টন এবং দুর্যোগকালীন সময়ে ১৫ লাখ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে মোট খাদ্যশস্য মজুদ সক্ষমতা ৩০ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রার পাশাপাশি দুর্গম পার্বত্য এলাকায় প্রাকৃতির দুর্যোগে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে তিনটি পার্বত্য জেলায় নতুন খাদ্য গুদাম নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বাংলাদেশের জনগণের প্রধান খাদ্য ভাত হলেও সাধারণ মানুষের খাদ্যতালিকায় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা অনুপুষ্টির ঘাটতি দীর্ঘদিনের সমস্যা, যা ২০০৬ সালে প্রণীত জাতীয় খাদ্য নীতিতে প্রথম নিরসনের কৌশলগত অগ্রাধিকার পায়। পরবর্তীতে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) এবং পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আলোকে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ে পুষ্টিচাল অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রাথমিকভাবে দারিদ্র্যপীড়িত কুড়িগ্রাম জেলার দু’টি উপজেলায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কারিগরি সহায়তায় পুষ্টিচাল বিতরণ শুরু হয়, যা পরবর্তীতে রক্তস্বল্পতা, জিংক ও ভিটামিন-এ এর ঘাটতি কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল এবং স্কুল মিল কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন উপজেলায় পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম বিস্তৃত হয়। কার্যক্রমকে আরো সুসংগঠিত করতে খাদ্য মন্ত্রণালয় ‘পুষ্টিচাল উৎপাদন, বিতরণ ও ব্যবস্থাপনাবিষয়ক নির্দেশিকা, ২০২১’ জারি করে, যার অধীনে খাদ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় কমিটি এবং খাদ্যসচিব ও অধিদফতরের নেতৃত্বে সমন্বিত কমিটি গঠন করা হয়।



