নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের আকাশে কিছু কালো চিল ঘুরাফেরা করছে- এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, সাবধান থাকবেন, ওরা যদি ছোঁ মেরে আপনাদের ভোটকে এলোমেলো করে দিতে চায়; সবগুলোর ডানা খুলে ফেলবেন। ওই স্লোগান এখন অচল। ‘আমার ভোট আমি দেবো, তোমারটাও আমি দেবো’ সেই দিন শেষ। তোমারটা তুমি দাও। আমারটা আমি দেবো। আমারটাই হাত দিবা না। হাত দিলে আগুন জ¦লে উঠবে। নেতাকর্মীদের তিনি সেই পাহারাদারি করার আহ্বান জানান।
গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর কলাবাগানে গ্রীণ রোড সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার মাঠে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা-১০ আসনে ১১ দলের প্রার্থী জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দীন সরকারের সমর্থনে এ জনসভার আয়োজন করা হয়। অধ্যাপক নূর নবী মানিকের সভাপতিত্বে আরো বক্তৃতা করেন, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. খলিলুর রহমান মাদানী, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, জুলাই আন্দোলনে একজন শহীদের পিতা এ কে এম রকিব উদ্দিন প্রমুখ।
২৪’র আন্দোলনকারীদের যারা খুন করেছে বাংলার মাটিতে তাদের বিচার করা হবে- এমন আশ^াস দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, তোমরা যে আকাক্সক্ষা নিয়ে লড়াই করেছিলে আমরা সে আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে সর্বশক্তি নিয়োগ করব ইনশাআল্লাহ। তিনি আরো বলেন, ৫৪ বছর জাতিকে বিভক্ত করে গোলাম বানিয়ে রাখা হয়েছিল। এ জাতিকে আর কারো গোলাম বানিয়ে রাখতে দেয়া হবে না। আমরা নির্বাচিত হলে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠন করব। ডা: শফিকুর রহমান বলেন, একটি দল ক্ষমতায় আসার আগে দাপট দেখানো শুরু করেছে। তারা মা-বোনদের কাপড় খুলে নেয়ার হুংকার দিচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার কথা বলে এখন মায়েদের গায়ে হাত দিচ্ছে। যে মায়েরা ’২৪ সালের আন্দোলন করেছে তাদের বিবস্ত্র করার হুমকি দিচ্ছে। লজ্জা, লজ্জা। যে দেশে মায়ের সম্মান থাকবে না সেই দেশ আমরা চাই না। পুরনো বন্দোবস্তের দেশ জাতি দেখতে চায় না। পঁচা রাজনীতির বদলে দিতে ১২ তারিখ দাঁড়িপাল্লাসহ ১১ দলের প্রার্থীদের ভোট দিন। নিরাপদ বাংলাদেশ যারা চান তারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন। আমরা নিজেরা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিবো, সারা দেশবাসী ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে আহ্বান জানাব।
তিনি ঢাকা-১০ এর প্রার্থী অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দীন সরকারকে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এলাকার যেসব সমস্যার কথা বলা হয়েছে সেগুলো সমাধান করার উদ্যোগ নেয়া হবে। বিশেষ করে এ এলাকায় যে ট্যানারি কারখানা ছিল সেটি স্থানান্তর করা হয়েছে। কিন্তু আধুনিক করা হয়নি। কাঁচামালের এ শিল্পকে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। আমরা তাদের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেবো। চামড়া শিল্প বিশে^ নজির স্থাপন করবে ইনশাআল্লাহ। দাঁড়িপাল্লাকে ইনসাফের প্রতীক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের ওপর আস্থা রাখুন। আমরা যেটুকু করতে পারব সেটুকুই বলছি। যা পারব না, তা বলছি না। ইনশাআল্লাহ বিজয়ী হলে আস্থার প্রতিদান দেয়ার চেষ্টা করব। ডাকসুর নেতারা চার মাসে যে পরিমাণ কাজ করে দেখিয়ে দিয়েছে আমরা বিজয়ী হলে এর চেয়ে ভালো কাজ করব। তিনি নেতাকর্মীদের ১২ ফেব্রুয়ারি বিজয় ঘরে নিয়ে আসতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানান।
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি জানান, ডা: শফিকুর রহমান অতীতের শাসকদের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, তারা দেশকে ভালোবাসেননি; বরং দীর্ঘ সময় ধরে শোষণ করেছেন। তারা গুম, খুন ও ‘আয়নাঘর’ সংস্কৃতির মাধ্যমে দেশকে একটি শ্মশানে পরিণত করেছে। তিনি বলেন, ‘এখন সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এসেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে একটি নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’ ঢাকার কেরানীগঞ্জের শাক্তা সরকারি স্কুল খেলার মাঠে গতকাল শনিবার জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলা আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি নেতা মো: নাহিদ ইসলাম।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, আগামী দিনে জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে কেরানীগঞ্জকে একটি মডেল জনপদে রূপান্তর করা হবে। কেরানীগঞ্জকে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় উন্নীত করে পরিকল্পিত ও আধুনিক নগরায়নের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরো বলেন, আগামীর নির্বাচনে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, পরিবারতন্ত্র এবং ব্যাংক লুটেরাদের বিরুদ্ধে ‘লাল কার্ড’ দেখানো হবে। এসব অনিয়ম ও অন্যায়ের রাজনীতিকে আর মেনে নেয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, আগামী ১২ তারিখ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে আরো সুসংহত করতে হবে। তার বক্তব্যে তিনি জানান, ১১ দলীয় ঐক্যজোটের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে একটি জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে তারা এগোচ্ছেন। জনসভায় আরো বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ঢাকা-১ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম, ঢাকা-২ আসনের প্রার্থী কর্নেল (অব:) আব্দুল হক, ঢাকা-৩ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহীনুর ইসলাম। এনসিপি মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা-১৯ আসনের দিলশাদ পারুল ও ঢাকা-২০ আসনের ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ। এ ছাড়া সমাবেশে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আফজল হোসাইন, নায়েবে আমির আব্দুর রউফ, জাগপা মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মশিউল আলম, মাওলানা জব্বার প্রমুখ।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা জেলা আমির মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিকল্প নেই। শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে পরিবর্তনের আহ্বান জানান তিনি।
‘সরকারি কর্মচারীদের সম্মানজনক বেতন দেয়া হবে’
দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যে বেতন দেয়া হয় তা দিয়ে সম্মানের সাথে চলা কঠিন। এ জন্যই অনেকে বাধ্য হয়ে অসদুপায় অবলম্বন করেন। আবার অনেকে লোভবশত, নেশাবশত অসদুুপায় অবলম্বন করেন। আমরা সম্মানের বেতন স্কেল তাদের হাতে তুলে দেবো ইনশা আল্লাহ। জামায়াত আমির বলেন, তারা ইজ্জতের সাথে স্ত্রী-সন্তান ও পুত্র, মা-বাবা নিয়ে তারা বসবাস করতে পারবেন। প্রশান্তির সাথে দেশকে-জাতিকে তারা সেবা দেবেন।
তিনি আরো বলেছেন, শুনতেছি পর্দা করা মা-বোনদের হুমকি দেয়া হচ্ছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়া হবে, এমনটাই যদি হয় তাহলে পরিবারের সদস্যরা মুখে আঙুল দিয়ে বসে থাকবে না। এমন পরিস্থিতি তৈরি না করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি সতর্ক বার্তা প্রদান করেন।
গতকাল দুপুরে দাউদকান্দি উপজেলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত বিরাট নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। কুমিল্লা-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা মনিরুজ্জামান বাহলুলকে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান ডা: মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।
অতীত সরকারগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি আরো বলেন, ‘বিগত দিনে আপনারা অনেক লুটপাট করেছেন, বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন, লুটপাটের অর্থ পাঠিয়েছেন এবার জনগণ আপনাদেরকে লাল কার্ড প্রদর্শন করবে সে সময় অতি নিকটে।’ তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় গিয়ে বাংলাদেশকে বাংলাদেশ বানাতে চাই, বৈষম্যহীন সাম্যের সমন্বয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। পাশাপাশি সব ধর্মের অধিকার সুরক্ষা ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে চাই । কওমি মাদরাসা প্রসঙ্গে একশ্রেণীর লোকের বিভ্রান্তিমূলক সমালোচনার জবাবে শফিকুর রহমান বলেছেন, কওমি মাদরাসা ইসলামের পক্ষের শক্তি, কওমি মাদরাসার প্রতিনিধি মাওলানা মামুনুল হক ১১ দলে রয়েছেন তাই মিথ্যা ও অপব্যাখ্যা দিয়ে জনগণের মন ভুলানো যাবে না। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জামায়াতের কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এ টি এম মা’ছুম, কুমিল্লা উত্তর জেলা আমির অধ্যাপক আব্দুল মতিন, মাওলানা মোশাররফ হোসেন, অ্যাডভোকেট মোখলেছুর রহমান, আবুল কাশেম প্রধানিয়া, মিজানুর রহমান আরিফ, রেজাউল সরকার, মো: মনিরুজ্জামান, শাহজাহান তালুকদার প্রমুখ।
চৌদ্দগ্রামে জনসভা
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলার মানুষ আর কোনো ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদকে সহ্য করবে না। আমরা কোনো আধিপত্যবাদীদের মানবও না। দেশের মানুষ দুর্নীতিগ্রস্ত কোনো সরকারকে আর দেখতে চায় না। তিনি শনিবার দুপুরে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় এ কথা বলেন।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ডা: সৈয়দ আবদুল্লাহ মো: তাহেরের সভাপতিত্বে চৌদ্দগ্রাম এইচ জে পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে আয়োজিত জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো: নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাছুম ও মাওলানা আবদুল হালিম, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মো: জাহিদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ, কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।
জামায়াত আমির বলেন, আপনারা যদি আমাদের ভোট দেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে ডা: সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে মন্ত্রী পরিষদের সিনিয়র সদস্য হিসেবে আপনারা দেখতে পাবেন। এই সুযোগ চৌদ্দগ্রামবাসী আপনারা কাজে লাগাবেন কি না সেটা ভেবে দেখবেন। তিনি আরো বলেন, ‘বিগত সময়ে শত অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেও আমরা দেশ ছাড়িনি। আমরা দেশেই ছিলাম, আমরা আছি এবং আমরা থাকব ইনশাআল্লাহ। আমরা মজলুম ছিলাম, মজলুমের দুঃখ আমরা বুঝি। এ জন্য আমরা কখনো জালিম হবো না।’ প্রতিদ্বন্দ্বী একটি দলের নেতা-কর্মীদের দ্বারা ১১ দলীয় সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণকারী নারীদের বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও হেনস্তার প্রসঙ্গে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘আর যদি কোনো মা-বোনের গায়ে হাত দেয়া হয়, তা হলে আমরা তাদের ছেড়ে কথা বলব না।
মা-বোনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মা-বোনেরা কোনো জুজুর ভয় পাবেন না। কোনো ভয়-ভীতিতে আপনারা ক্ষান্ত হবেন না। কারণ আপনারা সেই মা যারা আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ আর ওসমান হাদিদের জন্ম দিয়েছেন। যারা আপনাদের ভয় দেখায় আপনারা তাদের রুখে দিন।
প্রতিদ্বন্দ্বী দলের নেতাদের উদ্দেশ করে জামায়াত আমির আরো বলেন, আপনারা একদিকে বলছেন মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেবেন। আরেক দিকে আপনারা সেই মায়ের গায়েই দিচ্ছেন হাত। আপনারা মায়েদের কিভাবে দেখবেন এখনই বোঝা যাচ্ছে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ বেলাল হোসাইনের সঞ্চালনায় জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসের শূরা সদস্য ও কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলের টিম সদস্য আবদুস সাত্তার, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান, কুমিল্লা-১০ আসনের ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো: ইয়াছিন আরাফাত, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি আতিকুর রহমান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোতাসির বিন সাকির, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমান, সাবেক আমির ভিপি শাহাবুদ্দিন, পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা মোহাম্মদ ইব্রাহিম, জাতীয় নাগরিক শক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা শাহজালাল, চৌদ্দগ্রাম নজমিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ এ কে এম সামছুদ্দিন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির উপজেলা সেক্রেটারি অনিল চন্দনাথ দেবনাথ, শহীদ সাহাবুদ্দিনের পিতা মাওলানা জয়নাল আবেদীন প্রমুখ। সভাপতির বক্তব্যে ডা: তাহের বলেন, জনগণের রায় নিয়ে নির্বাচিত হয়ে আমরা আগামীতে এমন একটি দেশ গড়ব যেখানে কোনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি থাকবে না। দেশে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও উন্নয়নের স্বার্থে দল মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করার জন্য ভোটারদের এগিয়ে আসতে হবে।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলব যে বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা যেমন থাকবে, তেমনি দ্বিমত প্রকাশেরও স্বাধীনতা থাকবে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলব যে বাংলাদেশে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষ সব শ্রেণীর মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত থাকে।



