বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো পৃথিবীতে শনাক্ত হওয়া একটি উচ্চশক্তির নিউট্রিনোর (অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও প্রায় ভরহীন মৌলিক কণা) সম্ভাব্য উৎস খুঁজে পেয়েছেন। তাদের মতে, অ্যান্টার্কটিকায় শনাক্ত হওয়া এই কণাটি এসেছে পৃথিবী থেকে প্রায় ১১ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের ‘শ্যাডো ব্লাস্টার’ নামের একটি তারাগঠনে অত্যন্ত সক্রিয় ছায়াপথ থেকে। এ আবিষ্কার মহাবিশ্বে নিউট্রিনোর উৎপত্তি সম্পর্কে নতুন ধারণা দিচ্ছে।
২০২১ সালে অ্যান্টার্কটিকার ‘আইসকিউব’ মানমন্দিরে ‘আইসি ২১০৯২২এ’ নামে একটি উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত হয়। দীর্ঘ গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা এর সম্ভাব্য উৎস হিসেবে ‘শ্যাডো ব্লাস্টার’ ছায়াপথকে চিহ্নিত করেছেন। গবেষণার ফলাফল ১৭ জুন বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচার অ্যাস্ট্রোনমিতে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণার প্রধান ইউজি উরাতা ও তার সহকর্মীরা ‘জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল’ দূরবীক্ষণযন্ত্র, ‘সাবমিলিমিটার অ্যারে’ এবং ‘আলমা’ মানমন্দির ব্যবহার করে ছায়াপথটির বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করেন। মাঝখানে থাকা একটি উপবৃত্তাকার ছায়াপথের মহাকর্ষীয় প্রভাবে (মহাকর্ষের কারণে আলোর পথ বাঁকা হয়ে বড় বা একাধিক ছবি দেখা যাওয়ার ঘটনা) ‘শ্যাডো ব্লাস্টার’-এর আলো চারটি পৃথক ছবিতে বিভক্ত হয়ে যায়। এতে বিজ্ঞানীরা ছায়াপথটির ভেতরের গঠন আরো স্পষ্টভাবে বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হন। গবেষণায় দেখা যায়, ছায়াপথটির কেন্দ্র অত্যন্ত ঘন এবং সেখানে নতুন তারা তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ পদার্থ রয়েছে। তবে কেন্দ্রে সক্রিয় অতি ভারী কৃষ্ণগহ্বরের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞানীদের মতে, এ আবিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, শুধু কৃষ্ণগহ্বর নয়, দ্রুত তারাগঠনকারী ছায়াপথও উচ্চশক্তির নিউট্রিনো তৈরির প্রাকৃতিক কেন্দ্র হতে পারে। ইউজি উরাতার ধারণা, এ ধরনের ছায়াপথ ‘আইসকিউব’ শনাক্ত করা মহাজাগতিক নিউট্রিনোর প্রায় ২০ শতাংশের উৎস হতে পারে। প্রায় ১০ বিলিয়ন বছর আগে এ ধরনের ছায়াপথের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল, যা মহাবিশ্বে বিপুল পরিমাণ নিউট্রিনোর উপস্থিতির একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হতে পারে।



