প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালিকা সংগ্রহ

ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার চাহিদা নিচ্ছে ডিপিই

শাহেদ মতিউর রহমান
Printed Edition

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি অনেক আগেই শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী এখন প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকাও সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য চাহিদা সংগ্রহ করে সে অনুযায়ী বাজেট বরাদ্দের বিষয়েও ভাবছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল সোমবার ভোটের কেন্দ্র হিসেবে ঘোষিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালিকা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতরে (ডিপিই) জমা দেয়া হয়েছে। শিগগিরই বিদ্যালয়সংখ্যা এবং কী পরিমাণ সিসি ক্যামেরা প্রয়োজন হতে পারে তারও একটি সম্ভাব্য সংখ্যা জানাতে হবে ইসিকে। সে মোতাবেক অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট গ্রহণ উপলক্ষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের চাহিদা পাঠানোর নির্দেশনা মতে গতকাল সোমবার সারা দেশের জেলা উপজেলা থেকে একটি তালিকা সংগ্রহ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতর। দুই দিন সময় দিয়ে বিষয়টি অতি জরুরি হিসেবে উল্লেখ করে একটি নোটিশ জারি করে ডিপিই। অধিদফতরের নির্ধারিত ইমেইলে এ চাহিদা পাঠানোর জন্য বলা হয়।

সূত্র জানায়, গত রোববার এ সংক্রান্ত একটি চিঠি প্রাথমিক শিক্ষার সব বিভাগীয় উপপরিচালককে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বিষয়টি জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬-এ ভোটগ্রহণ উপলক্ষে কেন্দ্রভিত্তিক সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত রয়েছে। সে প্রেক্ষিতে সোমবারের মধ্যে নিদিষ্ট ছক মোতাবেক সংশ্লিষ্ট বিভাগের উপজেলা ও জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট কেন্দ্রের তথ্য একত্রিত করে নিকষ ফন্টে এক্সেল শিটে ধফমবহবৎধষফঢ়ব@মসধরষ.পড়স-এ পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়। তথ্যের মধ্যে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, ছক, ভোট কেন্দ্রের তালিকা, প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে কতটি সিসি ক্যামেরা প্রয়োজন এবং সম্ভাব্য কী পরিমাণ টাকার প্রয়োজন হতে পারে সেটি উল্লেখ করতে বলা হয়।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট কেন্দ্র নির্ধারণ এবং সিসি ক্যামেরা স্থাপন প্রসঙ্গে গতকাল সোমবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতরের চলতি দায়িত্বে থাকা পরিচালক (অর্থ) মো: মাহবুবুর রহমান বিল্লাহ নয়া দিগন্তের এ প্রতিবেদককে জানান, সিসি ক্যামেরা স্থাপনের তালিকা আমাদের কাছে চাওয়া হয়েছে। এ ক্যামেরা স্থাপনে যে পরিমাণ অর্থ দরকার হবে সেটা হয়তো নির্বাচন কমিশন কিংবা অর্থ মন্ত্রণালয় জোগান দেবে। তবে আমরা চাহিদা এবং সিসি ক্যামেরার সংখ্যা বা পরিমাণ কেমন হতে পারে সেটি ইস্টিমেট করছি। আর বিষয়টি ডিপিই’র প্রশাসন শাখা থেকেই তদারকি করা হচ্ছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

অপর দিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) সূত্র জানায়, যে সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় কিংবা কলেজ ভোট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে সে তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে। এ সব বিদ্যালয় কিংবা কলেজেও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মাউশির এক কর্মকর্তা জানান, বিদ্যালয়ের নিয়মিত সংস্কার কাজের জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর থেকে প্রতি বছরই একটি বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়; কিন্তু জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে কিংবা প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য অতিরিক্ত যে অর্থের দরকার পড়বে সেটি হয়তো ইসি কিংবা শিক্ষা মন্ত্রণালয় বহন করবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন নাগরিক চূড়ান্তভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ছয় কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন, নারী ভোটারসংখ্যা ছয় কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন এবং এক হাজার ২৩৪ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। এ ছাড়া অস্থায়ী ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৪টি, যেখানে প্রায় ১২ হাজার ভোটকক্ষ থাকবে। এটি ‘ক্যাচমেন্ট এরিয়া’ হিসেবে ধরা হয়েছে। প্রয়োজনে এ সংখ্যা সামঞ্জস্য করা হতে পারে।