নিজস্ব প্রতিবেদক
অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। পূর্বের সব নিয়োগ বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের ৮৬ জন আইনজীবীকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এবং ১৭৯ জনকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর অনুবিভাগ (জিপি-পিপি শাখা) গতকাল বৃহস্পতিবার পৃথক দু’টি প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নতুন এই আদেশের ফলে দুই পদে সর্বমোট ২৬৫ জন আইনজীবী নিয়োগ পেলেন। বিএনপি সরকার মতায় আসার পর রাষ্ট্রপরে আইন কর্মকর্তা হিসেবে এটিই প্রথম নতুন নিয়োগ।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর অনুবিভাগের বিভিন্ন তারিখে ইস্যুকৃত স্মারকে পূর্বে নিয়োগ পাওয়া সব ডিএজি ও এএজির নিয়োগ বাতিল করা হলো। পরবর্তীতে দ্য বাংলাদেশ ল অফিসার্স অর্ডার, ১৯৭২-এর ৩(১) অনুচ্ছেদের মতাবলে সুপ্রিম কোর্টের ৮৬ জন আইনজীবীকে ডিএজি এবং ১৭৯ জনকে এএজি পদে পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত নিয়োগ দেয়া হলো। পৃথক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, এই নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে এতো কর্মকর্তার দরকার কি শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল। ওই সময় কার্যালয়টিতে রেকর্ডসংখ্যক ১০৩ জন ডিএজি ও ২৩০ জন এএজি দায়িত্ব পালন করছিলেন, যার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আইনবিশেষজ্ঞরা।
২৫ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল দেশের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর, গত ২৯ মার্চ আইন কর্মকর্তাদের কাজের মান যাচাইয়ে ‘পারফরম্যান্স ইভল্যুশন টেস্ট’ (কর্মদতা মূল্যায়ন পরীা)-এর উদ্যোগ নেন। পরীা আয়োজনের পর বেশ কয়েকজন ডিএজি ও এএজি পদত্যাগ করেন।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারের এই প্রজ্ঞাপনের আগপর্যন্ত কার্যালয়ে ৯৩ জন ডিএজি এবং ২১৩ জন এএজি দায়িত্বে ছিলেন, যারা মূলত বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। গতকালের নতুন নিয়োগে তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ পুনর্বহাল হলেও অনেকেই বাদ পড়েছেন।



