উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা শুরু হচ্ছে আজ

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা শুরু হচ্ছে আজ। পূর্বাচল উপশহরের ৪ নম্বর সেক্টরের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে সকাল ১০টায় মেলার উদ্বোধন করবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মেলাটি ১ জানুয়ারি শুরুর কথা ছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তা পিছিয়ে দেয়া হয়। এবারের মেলায় ১১টি বিদেশীসহ ৩২৪টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন রয়েছে।

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা
Printed Edition

মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা শুরু হচ্ছে আজ। পূর্বাচল উপশহরের ৪ নম্বর সেক্টরের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে সকাল ১০টায় মেলার উদ্বোধন করবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মেলাটি ১ জানুয়ারি শুরুর কথা ছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তা পিছিয়ে দেয়া হয়। এবারের মেলায় ১১টি বিদেশীসহ ৩২৪টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় (ডিআইটিএফ) অংশগ্রহণকারী সব দেশ এবং প্রতিষ্ঠানকে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং অংশীদারিত্বের চেতনায় একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টা তার বাণীতে বলেন, ‘এই মেলা একটি অনন্য উদ্যোগ যা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা তুলে ধরবে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত ও কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জনে আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্য অর্জনে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। আমি আশা করি, এ মেলার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিদেশে বাংলাদেশী পণ্য রফতানি বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া দেশীয় পণ্যের প্রচার, পণ্য বহুমুখীকরণ, বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়নেও এ মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মেলায় অংশগ্রহণকারী সব দেশ ও প্রতিষ্ঠান পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করবে। সবার কার্যকর অংশগ্রহণে এ মেলা হয়ে উঠবে সুন্দর, ক্রেতাবান্ধব ও উৎসবমুখর।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুারোর (ইপিবি) সচিব তরফদার সোহেল রহমান বলেন, এবারের বাণিজ্যমেলায় মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী এবং জুলাই আন্দোলনে আহতরা পরিচয়পত্র দেখিয়ে বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন। সাধারণ টিকিটের মূল্য জনপ্রতি ৫০ টাকা, ১২ বছর বয়সের নিচে শিশুদের ২৫ টাকা। ইতোমধ্যে বাণিজ্যমেলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। মেলার ক্রেতা-বিক্রেতা ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ জন্য ৯ শতাধিক পুলিশসহ পর্যাপ্তসংখ্যক আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, র‌্যাব, গোয়েন্দা সংস্থাসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন।

তিনি বলেন, বাণিজ্যমেলার ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আসা-যাওয়ার সুবিধার্থে বিআরটিসির বিশেষ বাস সার্ভিস থাকবে। কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট (খেজুর বাগান/খামার বাড়ি), নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বাণিজ্যমেলার উদ্দেশে বিআরটিসির ২০০টির বেশি শাটল বাস চলবে।

মেলায় ই-টিকিটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্যাংকিং সার্ভিসের জন্য মেলায় থাকবে পর্যাপ্তসংখ্যক এটিএম বুথ। মা ও শিশুদের জন্য মেলায় থাকবে মা ও শিশু কেন্দ্র। এ ছাড়া রক্ত সংগ্রহ কেন্দ্র, মসজিদ, দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য আরামদায়ক ও শোভন চেয়ার/বেঞ্চ, সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য সিটিং কর্নার ইত্যাদির ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত, তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলবে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার ১১টি প্রতিষ্ঠান এবারের মেলায় অংশগ্রহণ করছে।

বিদেশী উদ্যোক্তা/প্রতিষ্ঠানের সুবিধার্থে থাকছে ইলেক্ট্রনিক্স ও ফার্নিচার জোন। সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য তৈরি করা হয়েছে সিটিং কর্নার। শিশুদের নির্মল চিত্তবিনোদনের জন্য মেলায় থাকছে দু’টি শিশু পার্ক। পণ্য প্রসার ও বিপণনের জন্য মেলায় থাকছে উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। মহিলা, প্রতিবন্ধী, কুটির/তাঁত/বস্ত্র/হস্তশিল্পের উদ্যোক্তাদের সংরক্ষিত স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

এবারের মেলায় পলিথিন ব্যাগ এবং সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে হ্রাসকৃত মূল্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ব্যাগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে মেলায় সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে ফায়ার ব্রিগেড। পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য দুই শতাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে। মেলায় খাদ্যদ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যসহ গঠিত টিম মেলা চলাকালীন প্রতিদিন ভেজালবিরোধী আদালত পরিচালনা করবে।

মেলায় আগত দর্শনার্থীদের জন্য সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও পেমেন্ট কেয়ার এটেনডেন্ট উপস্থিত থেকে ফ্রি প্রাথমিক চিকিৎসা ও চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করবে। যারা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে আসবেন তাদের জন্য থাকছে পর্যাপ্ত কার পার্কিং সুবিধা। পাঁচ শতাধিক গাড়ি পার্কিং সুবিধাসংবলিত দ্বিতল কার পার্কিং বিল্ডিং ছাড়াও এক্সিবিশন হলের বাইরে ছয় একর জমিতে এবং রাজউকের গরুর হাট মাঠসহ তিনটি বিস্তর পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।