নিজস্ব প্রতিবেদক
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে যেকোনো ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। একই সাথে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তা ছাড়া রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ বিশেষ নিরাপত্তার বলয় গড়ে তুলছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
গতকাল সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা-২ থেকে সশস্ত্রবাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে দেয়া এক চিঠিতে এই সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দেয়া হয়। চিঠিতে জানানো হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ কিছু সংগঠন বেআইনি মিছিল ও শোডাউনের মাধ্যমে জননিরাপত্তা বিঘিœত করার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগরসহ নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ৯ দিনের জন্য ’ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েন থাকবেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটনার পাশাপাশি জান মালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
এ দিকে রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে কড়া নজরদারিসহ গুরুত্বপূর্ণ ২০০টিরও বেশি কৌশলগত স্থানে পুলিশের বিশেষ পিকেট ও চেকপোস্টে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৮ হাজারেরও বেশি অফিসার ও ফোর্স সরাসরি মাঠে নিয়োজিত ও ডিউটি পরিচালনা করা হবে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবেলায় মহানগরের বিভিন্ন পয়েন্টে ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। চারটি প্রধান কন্ট্রোলরুমে পর্যাপ্ত সংখ্যক ফোর্স রিজার্ভ রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো আহ্বানে তাৎক্ষণিক অ্যাকশনে যাওয়া সম্ভব হয়।
নিমিত পুলিশের পাশাপাশি মাঠে সক্রিয় থাকবে ডিএমপির বিশেষায়িত ইউনিট ডিবি (গোয়েন্দা শাখা) এবং সিটিটিসি (কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম)। এ ছাড়া নাশকতার আগাম ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করবে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং আইএডি (ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন) ও গোয়েন্দার কার্যক্রম চলমান থাকবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানা গেছে যে, নিয়মিত বাহিনীর অংশ হিসেবে বিজিবি এবং পুলিশ কয়েক দিন ধরে অত্যন্ত তৎপর রয়েছে। দেশের সার্বিক শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি নিয়মিত এই বাহিনীগুলোও মাঠে অবস্থান করছে এবং যেকোনো নাশকতার চেষ্টা প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে।
নাশকতার গোয়েন্দা তথ্য ও বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল ও পুলিশের প্রতি আক্রমণাত্মক হুমকির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু ‘ঝটিকা মিছিল’ এবং পুলিশের প্রতি প্রকাশ্য হুমকির ঘটনায় নাশকতার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর বিভিন্ন মিছিল থেকে পুলিশের উদ্দেশে আক্রমণাত্মক স্লোগান দেয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জনমনে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া রোধ করতেই এই আগাম ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।



