হেফাজত আমিরের সুপারিশ সংগ্রহ এক পরিচালকের

ইফার ডিজি হতে দৌড়ঝাঁপ অর্ধডজন ব্যক্তির

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (ডিজি) পদে নিয়োগ পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন অন্তত অর্ধডজন ব্যক্তি। এর মধ্যে ইফার বর্তমান বোর্ড সদস্য মাওলানা শাহ নেছারুল হক, ইফার পরিচালক আনিসুজ্জামান সিকদার, অবসরপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ফজলুর রহমানের নাম বেশি শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়া আরো কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ একাধিক রাজনৈতিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।

খালিদ সাইফুল্লাহ
Printed Edition

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (ডিজি) পদে নিয়োগ পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন অন্তত অর্ধডজন ব্যক্তি। এর মধ্যে ইফার বর্তমান বোর্ড সদস্য মাওলানা শাহ নেছারুল হক, ইফার পরিচালক আনিসুজ্জামান সিকদার, অবসরপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ফজলুর রহমানের নাম বেশি শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়া আরো কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ একাধিক রাজনৈতিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ধর্মসচিব কামাল উদ্দিনকে সরিয়ে দেয়। এরপর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আ: ছালাম খানকে সরিয়ে দেয়ার গুঞ্জন ওঠে। এরই মধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তি ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীর দফতরে ছুটাছুটি শুরু করেন। সরকারও বিষয়টি আমলে নিয়ে আগ্রহীদের মধ্য থেকে কয়েকজনের একটি তালিকা তৈরি করেছে। এর বাইরেও আরো কয়েকজন এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এ পদটি বাগিয়ে নিতে। এদের অন্যতম হলেন ইফার বর্তমান জুনিয়র পরিচালক আনিসুজ্জামান সিকদার। বিএনপির সাবেক মহাসচিব মরহুম এ কে এম ওবায়দুর রহমানের ভাগ্নে ও বর্তমান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের ফুফাতো ভাই আনিসুজ্জামান এ লক্ষ্যে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সুপারিশ সংগ্রহ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আনিসুজ্জামান সিকদার নড়াইলের কালিয়ার বাসিন্দা হলেও তিনি এতদিন গোপালগঞ্জের অধিবাসী হিসেবে পরিচয় দিতেন। এ ছাড়া তার নিয়োগ হয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকারের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের শেষ সময়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগের নেতা ও পরবর্তীতে সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ এবং আওয়ামী লীগ আমলে বিতর্কিত মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদের তদবিরে। এ জন্য বিগত আওয়ামী লীগ আমলে তিনি বেশ সুযোগ সুবিধাও ভোগ করেন। তার চাকরি ও পদোন্নতি নিয়ে বিভিন্ন সময় বিতর্ক ছিল। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর তদবিরে নির্ধারিত সময়ের এক বছর আগে উপপরিচালক পদে পদোন্নতি পান আনিসুজ্জামান। ওই সময় পদোন্নতি হওয়ার কথা ছিল তার চেয়ে ১০ বছরের সিনিয়র হাফেজ মাওলানা ডক্টর আব্দুল জলিলের। কিন্তু আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার তদবিরে এক বছর আগেই আনিসুজ্জামান সিকদারকে উপপরিচালক পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। এরপর ২০১৭ সালে জ্যেষ্ঠতার তালিকায় পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও তাকে পরিচালক পদে উন্নীত করা হয়। জ্যেষ্ঠক্রম তালিকায় তার অবস্থান ছিল ৭২ নম্বরে। এ সময় ৭১ জন সিনিয়রকে ডিঙিয়ে তাকে পরিচালক বানানো হয়। আনিসুজ্জামান সিকদার জুনিয়ার পরিচালক হয়েও শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর তদবিরে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আওয়ামী আমলে যখন সুপ্রিম কোর্টে ভাস্কর্য নিয়ে হেফাজতে ইসলাম আন্দোলন শুরু করে তখন তিনি এর বিপরীত অবস্থান নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ডয়েচে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইমাম প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমির পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান সিকদার তখন বলেন, ‘ভাস্কর্য আর মূর্তি এক না আলাদা, তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে বিতর্ক আছে।’ তবে পূর্ণ প্রতিকৃতি না হয়ে অর্ধেক বা আংশিক ভাস্কর্য নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই, এটা জায়েজ আছে, বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার বিরুদ্ধে এলাকায় জমিসংক্রান্ত একাধিক মামলা এবং দুদকেও দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে বলে জানা যায়। এ জন্য গত ৫ আগস্টে আওয়ামী সরকারের পতনের পর তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ দিকে বেফাক মহাসচিবের তদবিরে তাকে আবার ঢাকায় পদায়ন করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসায় গিয়ে আনিসুজ্জামান সিকদার নিজেই হেফাজতের আমির মাওলানা মহিবুল্লাহ বাবুনগরীর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের মাধ্যমে আমিরের সুপারিশ নেন। এ বিষয়ে আনিসুজ্জামান সিকদার নয়া দিগন্তকে বলেন, আমি একজন দাওরা পড়া আলেম। বিভিন্ন সময়ে আমি হেফাজত আমিরের কাছে দোয়া নিতে যাই। সে রকম তার দোয়া নিতে গিয়েছিলাম। তিনি আরো বলেন, ইফার মহাপরিচালক হিসেবে অনেকেই চেষ্টা করছেন। তবে এখানে এমন ব্যক্তির মহাপরিচালক হওয়া উচিত যিনি মাওলানা এবং ভিতরের বিভিন্ন পদে চাকরি করেছেন। এতে তিনি আগে থেকেই সবকিছু জানেন। আর বাইরে থেকে কাউকে নিয়োগ দিলে তার ইফার কার্যক্রম বুঝতেই এক বছর লেগে যায়।