নয়া দিগন্তে সংবাদ প্রকাশ

৪০ বছরের জলাবদ্ধতার অবসান, চাষের আওতায় ৫ হাজার বিঘা জমি

Printed Edition

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা

দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে জলাবদ্ধতায় পড়ে থাকা সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ হাজার বিঘা জমি চাষাবাদের আওতায় আসার পথ তৈরি হয়েছে। দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্থানীয় কৃষকদের উদ্যোগ ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপলাইন স্থাপন করায় এ সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানায় স্থানীয়রা।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘুড়কা ইউনিয়নে পানি নিষ্কাশনের পাইপলাইন উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আবদুল খালেক পাটোয়ারী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথপুর ও ঘুড়কা নতুনপাড়া এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি দীর্ঘদিন ধরে পানিতে নিমজ্জিত থাকায় চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে বিপুল পরিমাণ জমি বছরের পর বছর অনাবাদি পড়ে ছিল। সমস্যা সমাধানে কৃষক ও জমির মালিকরা নিজেদের অর্থায়নে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেন।

ঘুড়কা নতুনপাড়া এলাকায় প্রায় এক হাজার ২০০ ফুট পাইপলাইন স্থাপনে কৃষকদের প্রায় ১৬ লাখ টাকা এবং জগন্নাথপুরে এক হাজার ১০০ ফুট পাইপলাইন স্থাপনে আরো প্রায় ১৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। পানি নিষ্কাশন হলে অনাবাদি জমিতে বছরে তিনটি ফসল আবাদ করা সম্ভব হবে বলে জানান কৃষকরা।

কৃষক তমেজ আলী, রফিকুল ইসলাম, রোকন ও শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘৪০ বছর ধরে জমিগুলো পানির নিচে পড়ে ছিল। এখন পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হওয়ায় আবার চাষাবাদ করতে পারব। এতে সংসারের আয় কিছুটা বাড়বে।’ বিএডিসির ক্ষুদ্র সেচ বিভাগের প্রকৌশলী আনন্দ বর্মন বলেন, কারিগরি দিক বিবেচনা করে পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। সঠিক ব্যবহার ও নিয়মিত রণাবেণ করা হলে এটি দীর্ঘমেয়াদে কাজে আসবে।

ইউএনও মো: আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের ফলে বিপুল পরিমাণ জমি চাষের আওতায় আসবে। এতে কৃষক ও স্থানীয় অর্থনীতি উপকৃত হবে।