খুলনা ব্যুরো
খুলনা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত চরম মামলাজটে নাকাল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন ১৮ হাজারের বেশি মামলা সামলাতে রয়েছেন চিফ ম্যাজিস্ট্রেটসহ মাত্র তিনজন বিচারক। তীব্র বিচারক সঙ্কটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন বিচারপ্রার্থীরা। একের পর এক মামলার তারিখ পেছাতে থাকায় অপরাধ দমনেও এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে।
সিএমএম আদালতের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন আদালতে বিচারাধীন মামলা ছিল ১৬ হাজার ৭৯১টি। জুলাই মাসে নতুন এবং বিভিন্ন থানা থেকে আসা চার হাজার ২০৮টি মামলার বিপরীতে নিস্পত্তি ও উচ্চ আদালতে স্থানান্তরিত হয় দুই হাজার ৭৯৭টি মামলা। ফলে জুলাই শেষে মোট মামলা দাঁড়ায় ১৮ হাজার ২০২টিতে। পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলেছে সরকার ঘোষিত পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত চেক ডিজঅনারের মামলার নতুন সিদ্ধান্ত। এ সিদ্ধান্তের পর উচ্চ আদালত থেকে অতিরিক্ত আরো প্রায় পাঁচ হাজার মামলা সিএমএম কোর্টে স্থানান্তরিত হয়েছে।
আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা তপন কুমার সাহা জানান, সিএমএম আদালতে ছয়টি ম্যাজিস্ট্রেটের পদ থাকলেও গত মাস থেকে চিফ ম্যাজিস্ট্রেটসহ দু’জন বিচারক দায়িত্ব পালন করছেন। এই স্বল্পসংখ্যক বিচারকের পক্ষে এত বিরাটসংখ্যক মামলার চাপ সামলানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একজন জ্যেষ্ঠ বিচারক জানান, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩০টির মতো মামলার শুনানি করা সম্ভব হলে এক মাসে এক ম্যাজিস্ট্রেট প্রায় ৭০০টি শুনানির কাজসম্পন্ন করতে পারেন। তবে বর্তমান মামলার অনুপাতে একটি মামলার শুনানির পর পরবর্তী তারিখ দিতে কমপক্ষে ছয় মাস সময় লেগে যাচ্ছে। এই সঙ্কট কাটাতে সিএমএম কোর্টে অন্তত ১৫ জন বিচারক প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। যেসব জেলায় মামলার চাপ কম, সেখান থেকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি থাকা বিচারকদের এখানে বদলি করা হলে সমস্যার আশু সুরাহা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
খুলনা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোল্লা মাসুম রশিদ জানান, সিএমএম কোর্টের মামলাজট নিয়ে আইনজীবীরা চিন্তিত। বিষয়টি নিয়ে মাসিক পর্যালোচনা সভায় আলোচনা হয়েছে এবং জেলা জজ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। দ্রুতই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।



