আলকামা সিকদার মধুপুর (টাঙ্গাইল)
টাঙ্গাইলের মধুপুর দীর্ঘ দিন ধরে আনারসের রাজ্য হিসেবে পরিচিত হলেও এবার সেই পরিচিতির পাশাপাশি নতুন সম্ভাবনার নাম হয়ে উঠেছে সূর্যমুখী চাষ। কম খরচে বেশি ফলন এবং তেলজাত ফসল হিসেবে বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় সূর্যমুখী এখন মধুপুরের কৃষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। ফসলি জমির বুকে সারি সারি সূর্যমুখী ফুল ভোরের সোনালি রোদে ঝলমল করে উঠছে। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, সবুজ পাতার আড়াল থেকে মুখ উঁচু করে হাসছে হলুদ সূর্যমুখী।
সূর্যের মতো আকৃতি এবং সূর্যের দিকেই মুখ করে থাকার বৈশিষ্ট্যের কারণে এ ফুলের নাম সূর্যমুখী। মধুপুরের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা সূর্যমুখীর বাগানে প্রতিদিনই বসছে প্রজাপতি ও মৌমাছির মেলা। চোখ জুড়ানো এই দৃশ্য শুধু কৃষকদেরই আনন্দ দিচ্ছে না, মোহিত করছে ফুলপ্রেমী ও প্রকৃতিপ্রেমী মানুষকেও। মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সূর্যমুখী তেলে মানবদেহের জন্য উপকারী ওমেগা-৬, ওমেগা-৯, ভিটামিন ই ও ভিটামিন কে রয়েছে।
তাই সূর্যমুখী শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুণ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। কৃষি প্রণোদনার আওতায় মধুপুরে তেলজাতীয় ফসল হিসেবে সূর্যমুখী চাষে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত বছরের মতো এবারো ফলন ভালো হয়েছে। এতে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। বর্তমানে ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সূর্যমুখী তেল ভবিষ্যতে তেলের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কম খরচে ভালো লাভ হওয়ায় দিন দিন সূর্যমুখী চাষে আগ্রহ বাড়ছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এরশাদ আলী জানান, সূর্যমুখী এমন একটি ফসল যার উৎপাদন খরচ কম হলেও লাভ বেশি। অন্যান্য তেলের তুলনায় সূর্যমুখী তেলে পুষ্টিগুণ বেশি। তিনি বলেন, কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেয়ার ফলে এ বছর সূর্যমুখীর আবাদ ভালো হয়েছে এবং আগামীতে মহিষমারা ইউনিয়নে এর চাষ আরো বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
মহিষমারা গ্রামের জাতীয় স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত কৃষক ও মহিষমারা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন জানান, তিনি এ বছর দুই বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। অল্পসময়ে ফসল পাওয়া যায় এবং লাভও বেশি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা জানান, চলতি মৌসুমে মধুপুর উপজেলায় মোট ৪৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি।



