কিশোরগঞ্জে মাদরাসায় জালিয়াতির মাধ্যমে ২৩ শিক্ষক নিয়োগ কোটি টাকার বাণিজ্য

Printed Edition

মো: শাহজাহান কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী)

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা আফজালুল ফাজিল মাদরাসায় তথ্য গোপন ও জালিয়াতির মাধ্যমে ২৩ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে নিয়োগ দেখিয়ে এমপিওভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ১৮ জনকে ইতোমধ্যে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বাকি পাঁচজনের এমপিওভুক্তির জন্য জাল কাগজপত্র তৈরি করে মাদরাসা অধিদফতরে আবেদন পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, মাদরাসার অধ্যক্ষ অহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আগের নিয়োগ দেখিয়ে কোটি টাকার বেশি বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। ২০২০ সালের মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ১৮ জনের নাম না থাকার পরও তাদের পুরনো নিয়োগ দেখিয়ে এমপিওভুক্ত করা হয়। আরো জানা যায়, শিক্ষক পদে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৩ লাখ থেকে ১৬ লাখ টাকা এবং কর্মচারীদের কাছ থেকে পদভেদে সাত লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে।

অভিযোগে আরো বলা হয়, এনটিআরসির জাল নিবন্ধন সনদসহ বিভিন্ন কাগজপত্র ব্যবহার করে এসব নিয়োগ দেখানো হয়েছে। অধ্যক্ষের ভাই, ভাতিজা, ছেলে, জামাতাসহ নিকটাত্মীয়দের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

গত মে মাসে আরো পাঁচজনকে পুরনো নিয়োগ দেখিয়ে এমপিওভুক্তির আবেদন পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে একজন গ্রন্থাগারিক ও প্রভাষক পদে ২০১৫ সালের, একজন অফিস সহকারী কাম হিসাবরক্ষক পদে ২০২৪ সালের এবং তিনজন ল্যাব সহকারী পদে ২০২৩ সালের নিয়োগ দেখানো হয়েছে।

মাদরাসার সাবেক সভাপতি রেজাউল আলম স্বপন বলেন, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকাকালে এসব পদে কোনো নিয়োগ হয়নি। তার স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগের কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফ উজ-জামান সরকার বলেন, মাদরাসাটির বিভিন্ন বিষয় জানার পরও চাপের মুখে পাঁচজনের এমপিওভুক্তির আবেদন অধিদফতরে পাঠিয়েছেন।

অধ্যক্ষ অহিদুল ইসলামের সাথে সরাসরি ও মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।