তেজগঁাঁও শিল্পাঞ্চল সাব-রেজিস্ট্রি অফিস

চাঁদাবাজিতে যুবলীগ বহিষ্কারে যুবদল!

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চাঁদাবাজিতে জড়িত যুবলীগ নেতাদের পুলিশে ধরিয়ে দেয়ায় উল্টো মামলায় ফেঁসেছেন যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী। আবার সংগঠন থেকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বহিষ্কারও করা হয়েছে তাদের। এভাবে প্রকৃত ঘটনার তদন্ত ছাড়াই বহিষ্কারের ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশ বিরাজ করছেন অনেকেই।

তেজগঁাঁও শিল্পাঞ্চল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী আর বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, ৫ আগস্ট পরবর্তী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এখনো আওয়ামী লীগ আর যুবলীগ আগের মতো প্রভাব বিস্তার থেকে শুরু করে চাঁদাবাজি, দালালি করছে। এর ধারাবাহিকতায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবিস অ্যাসোসিয়েশনের বিএনপিপন্থী সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেনের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির একটি অভিযোগ ওঠে। টাকা না পেয়ে যুবলীগ কর্মী ও নকলনবিস গিয়াস উদ্দিন শুরুতে অস্ত্রসহ হুমকি দেন মাহবুবকে। পরে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি গিয়াস উদ্দিনের লোকজন মাহবুবের ওপর হামলা করে। এ ঘটনায় ওইদিনই মাহবুবের স্ত্রী নাসরীন আক্তার তেজগঁাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

বিএনপি নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, সাবেক কমিশনার এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিউল্লাহ শফি এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী যুবলীগের সভাপতি নুর হোসেন লেদুর পৃষ্ঠপোষকতায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে গিয়াস উদ্দিন ও তার অনুসারীরা চাঁদাবাজি করেন। তবে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কঠোর মনোভাবের কারণে তারা এ অফিস এড়িয়ে চলেন।

এ দিকে গত ১ মার্চ চাঁদা না পেয়ে গিয়াস উদ্দিন আবারো মাহবুবকে অবরুদ্ধ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মাহবুবকে উদ্ধার করে গিয়াস এবং কুনিপাড়া ইউনিটের ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আকিবকে থানার সোপর্দ করে। এ সময়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা বিএনপির আহ্বায়ক আইনুল ইসলাম চঞ্চলও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অথচ অজ্ঞাত কারণে সন্ধ্যায় তাদেরকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হলে উল্টো বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেই মামলা করেন গিয়াসউদ্দিন। মামলায় গিয়াস অভিযোগ করে বলেন, গত ১ মার্চ তাকে তেজগাঁও আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে থেকে অপহরণ করা হয়েছিল।

মামলায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আওতাধীন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ মুরাদ হোসেন এবং সাবেক সদস্য এইচ এম ফয়সাল, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেনেসহ আরো পাঁচজনকে আসামি করা হয়। আর এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ৩ মার্চ কেন্দ্রীয় যুবদলের সহদফতর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরে ওই তিন নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে।

যদিও যুবদল নেতা মোহাম্মদ আলী বলেন, যেখানে অপহরণের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। চাঁদাবাজির ঘটনায় স্থানীয়রা দুইজনকে থানায় সোপর্দ করে। কিন্তু তিনি ওই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না। ঘটনার দিন তিনি সেখানে উপস্থিতও ছিলেন না। এরপরও কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়া, তার কাছে ঘটনার বিষয়ে না জেনে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন বলেন, আমরা পুরো প্যানেলসহ জয়লাভ করেছি। এরপর থেকে তারা আমাকে হুমকি-ধমকিসহ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আমার ওপর হামলা করে গিয়াসউদ্দিনসহ তার অনুসারীরা। গত রোববার তারা আবারো আমাকে অবরুদ্ধ করলে পরে স্থানীয়রা মুক্ত করে গিয়াসসহ আরো একজনকে থানায় সোপর্দ করে। পরে জানতে পারি থানায় থেকে সে মুক্ত হয়ে উল্টো মিথ্যা মামলা করেছে।

যুবলীগ নেতা ও নকলনবিস গিয়াস উদ্দিন বলেন, যাদের বিরুদ্ধে তিনি মামলা করেছেন তারা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ করেছিল। কোথা থেকে এবং কিভাবে অপহরণ করা হয় সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি। আওয়ামী লীগের সাথে তার সখ্যতার বিষয়ে তিনি বলেন, অফিসিয়াল কাজে তাদের সাথে ছবি তুলেছেন।

তেজগঁাঁও শিল্পাঞ্চল থানা বিএনপির আহ্বায়ক আইনুল ইসলাম চঞ্চল বলেন, ঘটনার দিন আওয়ামী ফ্যাসিস্ট চিহ্নিত দুইজনকে থানায় সোপর্দ করা হয়। কিন্তু ঘটনাক্রমে উল্টো বিএনপি নেতাকর্মীদের নামেই মিথ্যা মামলা করেছেন ওই গিয়াসউদ্দিন। সেখানে বিএনপি ও যুবদলের অনেক নিরীহ নেতাকেও জড়িত করা হয়েছে। অথচ তারা কেউ এসব ঘটনার ধারে কাছেও ছিল না।

স্থানীয় যুবদলের নেতাকর্মীরা জানান, যুবদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অযোগ্যতা আড়াল করতে হরহামেশা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হন। এর মধ্য দিয়ে তারা দলের শীর্ষ নেতার কাছে নিজেদেরকে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন। এর সর্বশেষ বলি হতে হয়েছে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীকে। এসব নেতাকর্মীকে বহিষ্কারের আগে ন্যূনতম কোনো সাংগঠনিক প্রক্রিয়া মানা হয়নি ।