অতিরিক্ত টিভি দেখার ক্ষতি

Printed Edition

আমেরিকার দক্ষিণ ক্যারোলিনা ইউনিভার্সিটির গবেষকরা দাবি করেছেন, মধ্যবয়সে বেশি টিভির দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখ যত না খারাপ হবে, তার চেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে মস্তিষ্কে। মগজের আকার ছোট হয়ে যেতে পারে, দুর্বল হতে পারে মেধা ও স্মৃতিশক্তি।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিভি দেখার অভ্যাস কেবল চোখের বারোটা বাজায় না, মস্তিষ্কের গঠনেও বদল আনতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এমনই দাবি করেছেন। তাদের মতে, ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সে টিভির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে মস্তিষ্কে। প্রায় ১৭০০ প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও মহিলাকে দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণে রেখে এমনই দেখা গিয়েছে। গবেষকরা দেখেছেন, যার বয়স ৫০ বা তার আশপাশে তিনি যদি দিনে টানা পাঁচ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ধরে টিভি দেখেন এবং রোজই তা অভ্যাস করে ফেলেন, তা হলে তার মস্তিষ্কে কিছু বদল আসবে। এমনই কয়েক জনের মস্তিষ্কের এমআরআই করে দেখা গিয়েছে, কিছু জনের মস্তিষ্কের হিপ্পোক্যাম্পাস অংশটি সঙ্কুচিত হয়েছে। এই অংশকে বলা হয় স্মৃতির কুঠুরি। নিয়মিত অতিরিক্ত টিভি দেখলে এই অংশটির কোষগুলোর ঘনত্ব কমে যায়। ফলে একটা সময়ে গিয়ে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হতে থাকে। অ্যালঝেইমার্স রোগের শুরুতেও এই হিপ্পোক্যাম্পাস অংশটিরই ক্ষয় হতে থাকে।

অতিরিক্ত টিভি দেখার প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোবেও। এই অংশটি পরিকল্পনা, সিদ্ধান্তগ্রহণ ও মনোযোগ নিয়ন্ত্রণের কাজ করে। অতএব ফ্রন্টাল লোব সঙ্কুচিত হলে মস্তিষ্কের বিভ্রান্তি হবেই। সেই সাথেই মস্তিষ্কের অক্সিপিটাল লোবও সঙ্কুচিত হতে থাকে। ফলে চোখের ক্ষতি হয়।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বার্ধক্যে পৌঁছে মস্তিষ্কের যে স্বাভাবিক ক্ষয় ধীরে ধীরে শুরু হয়, অতিরিক্ত টিভি দেখার অভ্যাস সেই প্রক্রিয়াকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে এটি কেবল মধ্যবয়সী বা প্রবীণদের জন্যই প্রযোজ্য নয়, কমবয়সেও তা হতে পারে। শৈশব ও কৈশোরে মস্তিষ্ক দ্রুত বিকশিত হয়, ওই বয়সে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটানা টিভি দেখলে মনঃসংযোগের ঘাটতি হয়, কল্পনাশক্তির বিকাশ হয় না। ফলে বুদ্ধিমত্তা ও স্মৃতিশক্তি হ্রাস পেতে থাকে। ইন্টারনেট।