চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প আলোর পথে

বন্যপ্রাণী ও অভয়ারণ্য প্রাধান্য দিয়েই নতুন সমীক্ষা শেষ পর্যায়ে

Printed Edition

এস এম রহমান দক্ষিণ চট্টগ্রাম

প্রাকৃতিক পরিবেশ, বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য, সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট নিরসনকে প্রাধান্য দিয়ে দ্রুত এগিয়ে চলছে নতুন ভাবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয়লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের সমীক্ষার কাজ। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সমীক্ষা শেষ হলে বহুল প্রত্যাশিত এই মহাসড়ক ছয়লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প বাস্তবায়ন আলোর মুখ দেখবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সড়ক ও জনপথ অধিদফতর চট্টগ্রামের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: জাহিদ হোসেন। তিনি জানান, ওই প্রকল্পে সম্ভাব্য ব্যয় হতে পারে ৪০ থেকে ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

নতুন প্রকল্পে মহাসড়কের কক্সবাজারের চকরিয়া ফাশিয়াখালী থেকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা ওয়াইজংসন পর্যন্ত ৬৬ কিলোমিটার সমীক্ষার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার সফরকালে গুরুত্বের সাথে অতি অল্প সময়ের মধ্যে মহাসড়ক উন্নীতকরণের জন্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন। এরপরই অতিদ্রুত সমীক্ষার কাজ সম্পন্ন হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সমীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের আনোয়ারা ওয়াইজংসনে হচ্ছে একটি দৃষ্টিনন্দন ইন্টারচেঞ্জ, এ ছাড়া এই মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাতটি ৩.৫ কিলোমিটার ফ্লাইওভার, ১৬টি সেতু, ১৪টি কালভার্ট, এবং চুনতি অভয়ারণ্যে হচ্ছে হাতি চলাচলের জন্য ৪.১২ মিটারের একটি ফ্লাইওভার। নতুন সমীক্ষাতে প্রয়োজন অনুসারে মহাসড়কের কোথাও কোথাও ফ্লাইওভার করা হবে আবার কোথাও কোথাও এলিভেটেড করা হবে বলে সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে সর্বশেষ বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার যৌথ অর্থায়নে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নীতকরণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল একটি চূড়ান্ত সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করে ২০২২ সালে দাখিল করেছিল পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটির কাছে। ওই সময়ে প্রকল্পটি জিটুজির মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য জাপানের মারুবেনীর সাথে সমঝোতাও সম্পন্ন হয়েছিল।

বুয়েটের সমীক্ষায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নীতকরণ প্রকল্পে এশিয়ার সাথে গুরুত্বপূর্ণ সড়কযোগাযোগ (এশিয়ান কানেক্টিভিটি জোরদারকরণ) ভারত মিয়ানমার ও চীনের সাথে সরাসরি আধুনিক সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছিল।

জানা গেছে, জাইকার অর্থায়নে ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহসড়কের কক্সবাজার পয়েন্ট থেকে চট্টগ্রামের পটিয়া আনোয়ারা ক্রসিং পর্যন্ত ছয়লেনের আদলে চারটি সেতু নির্মাণ শেষ হয়েছে এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা পর্যন্ত গড়ে তোলা হয়েছে। এ ছাড়া জাইকার অধীনে এই মহাসড়কে পাঁচটি পয়েন্টে একটি ফ্লাইওভার ও চারটি বাইপাস নির্মাণ খুব দ্রুতই শুরু হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বুয়েটের সমীক্ষায় সড়কের আনুমানিক দৈর্ঘ্য ধরা হয়েছিল ১০৬ কিলোমিটার। প্রকল্প ব্যয় ওই সময়কার বাজারদরের সাথে সঙ্গতি রেখে আনুমনিক ধরা হয়েছিল ৪০ হাজার কোটি টাকা।

২০১৮ সালের জুলাই থেকে বুয়েটের প্রকৌশলী প্রফেসর ড. শামসুল হকের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞদল সর্বশেষ ওই সমীক্ষার কাজটি সম্পন্ন করেছিলেন। সমীক্ষার কাজ সমাপ্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নীতকরণ প্রকল্পটি অচিরেই আলোর মুখ দেখবে বলে সবার প্রত্যাশা ছিল ওই সময়ে।