শহীদ মিনারে ছাত্র খুন

নারীঘটিত দ্বন্দ্বে হত্যা করা হয় রাকিবকে

Printed Edition
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গতকাল ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় :  নয়া দিগন্ত
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গতকাল ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রকাশ্যে গুলি করে ও কুপিয়ে রাকিবুল ইসলাম নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর এক যুবককে আটক করে সাধারণ জনতা পুলিশে দেয়ার পর আরো দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় আরো দুই হামলাকারী গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে। তাদেরও নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে প্রকাশ্যে শহীদ মিনার এলাকায় এলোপাতাডি গুলি ও কুপিয়ে নির্মমভাবে কলেজছাত্র রাকিবুল ইসলামকে হত্যার পেছনে নারী সংক্রান্ত বিষয় রয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

একাধিক প্রেমের সম্পর্ক ও হামলাকারীদের একজনের স্ত্রীকে নিজের স্ত্রী বানানোর চ্যালেঞ্জ করার ক্ষোভ থেকে হত্যার পরিকল্পনা সাজানো হয়। যদিও নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, আরেক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের মাদক ব্যবসার কথা জেনে যাওয়ায় রাকিবকে হত্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে ডিএমপির রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম বলেন, ঘটনার পরপর এক যুবককে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে আরো দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের তিনজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে- নারী ঘটিত কোনো বিষয় রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় গতকাল রাকিবের বাবা তরিকুল ইসলাম খোকন বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন।

জানা গেছে, রাকিবের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ১০টি কোপের চিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়া দু’টি গুলির চিহ্নও রয়েছে। যার মধ্যে একটি গুলি মাথার ডান পাশে কানের উপর দিয়ে ঢুকে মাথার বাম পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। আরেকটি পিঠের ডানপাশ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। গতকাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গের সামনে আহাজারি করেন নিহতের স্বজনরা। সন্তানকে হারিয়ে বিলাপ করতে করতে রাকিবের মা রাজিয়া বেগম জানান, আমার বুকের ধনটা সন্ত্রাসীরা কেড়ে নিল। তার সাথে কারও কোনো শত্রুতা ছিল না। কোনো ঝগড়া-বিবাদ ছিল না। কেন আমার ছেলেকে কেড়ে নিল। আমার ছেলের রক্তে শহীদ মিনার লাল করছে। আমি সরকারের কাছে আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।

রাকিবের স্ত্রী হাবিবা আক্তার বলেন, বগুড়ায় এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিয়েতে গিয়ে জান্নাত মুন নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সাথে আমার স্বামীর পরিচয় হয়। এরপর থেকে জান্নাত আমার বাসায় যাতায়াত করত। আমাদের বাসায় থাকাকালীন আমার স্বামী টের পায়, সে (জান্নাত) কার সাথে যেন ফোনে মাদক বহনের বিষয়ে কথা বলত। বিষয়টি নিয়ে জান্নাতের বয়ফ্রেন্ড আমার স্বামীকে হত্যার হুমকি দেয়। এর কিছুদিন পরে ফেসবুকে কমেন্ট করা নিয়েও মুনের বয়ফ্রেন্ড আবারো হুমকি দেয়। এরপর কাজের প্রস্তাব দিয়ে খিলগাঁও ডাকলে আমাদের সন্দেহ হয়। তখন গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়। গত রোববার রাতে এক বড় ভাইয়ের সাথে শহীদ মিনার এলাকায় দেখা করতে গেলে ওই হুমকি দাতারাই হয়তো পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।

উল্লেখ্য, নিহত রাকিব শেখ বোরহানুদ্দিন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে রাজধানীর বংশালের নাজিমুদ্দিন রোডে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি ভোলা সদর থানার পৌর বাত্তা ১নং ওয়ার্ডে। রাকিবের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হলের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত। তার মা শেখ বোরহানুদ্দিন কলেজের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখায় অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত। রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীর সামনে রাকিবকে গুলি করে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। ঘটনার পর কয়েকজন পথচারী তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিলেও বাঁচানো যায়নি।