ক্যামেরায় ধরা পড়ল রহস্যময় বন্যপ্রাণী

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

বরফে ঢাকা উঁচু পাহাড়। সেখানে লুকিয়ে থাকে নানা রহস্যময় প্রাণী। এমনি এক রহস্যময় এবং বিরল প্রাণীর দেখা মিলল এবার। প্রাণীটির নাম ‘ইউরেশিয়ান লিংকস’। এটি মূলত এক ধরনের বন্য বিড়াল। প্রথমবারের মতো এর ছবি ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। ঘটনাটি ভারতের সিকিমের। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে এই, বিস্ময়কর ঘটনাটি ঘটে। মাঙ্গান জেলার সো লামো মালভূমিতে একটি স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। জায়গাটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭ হাজার ২২৪ ফুট উঁচুতে। সেখানেই ধরা পড়ে এই বিরল বিড়ালের স্পষ্ট ছবি। পূর্ব হিমালয় অঞ্চলে এটি মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো ক্যামেরায় ধরা পড়ল। এর আগে ২০২৫ সালে অরুণাচল প্রদেশে এটিকে দেখা গিয়েছিল।

আসল উদ্দেশ্য ছিল তুষার চিতা বা স্নো লেপার্ড খোঁজা। ২০২২ সাল থেকে সিকিমের বন বিভাগ এবং ডব্লিউডব্লিউএফ-ইন্ডিয়া যৌথভাবে এই কাজ করছে। তুষার চিতার পাশাপাশি ক্যামেরায় উঠে এসেছে আরো অনেক প্রাণীর ছবি। যেমন- প্যালাসের বিড়াল, তিব্বতি নেকড়ে, নীল ভেড়া ও তিব্বতি শেয়াল। কয়েক সপ্তাহ আগেই এখানে ‘মিশমি তাকিন’ নামের আরেকটি বিরল ও রহস্যময় ছাগল-হরিণের দেখা মিলেছিল।

ইউরেশিয়ান লিংকস প্রাণীটি দেখতে বেশ অদ্ভুত। এর কানের ওপরের দিকে লোমের গুচ্ছ থাকে, লেজ ছোট আর গায়ের চামড়া বেশ মোটা। এই মোটা চামড়ার কারণেই এরা প্রচণ্ড শীতেও বেঁচে থাকতে পারে। স্থানীয় ‘দ্রোকপা’ পশুপালকেরা অনেক আগে থেকেই এই প্রাণীটির কথা জানতেন। তবে ইদানীং এদের খুব একটা দেখা যাচ্ছিল না। ডব্লিউডব্লিউএফের কর্মকর্তা রোহান পণ্ডিত জানান, ২০০৪ সালেও এই এলাকায় একটি লিংকসের দেহাবশেষ পাওয়া গিয়েছিল।

তবে এখনো অনেক কিছু জানার বাকি আছে। ডব্লিউডব্লিউএফ-ইন্ডিয়ার কর্মকর্তা ড. ঋষি কুমার শর্মা জানান, প্রাণীটি কি এখানেই স্থায়ীভাবে থাকে নাকি অন্য কোথাও থেকে এসেছে, তা এখনো অজানা। তারা এখন এটি নিয়ে আরো গবেষণা করছেন। একইসাথে স্থানীয় মানুষদের জীবনজীবিকা ও গবাদিপশু রক্ষার দিকেও নজর দিচ্ছেন তারা। কারণ অনেক সময় এই বন্যপ্রাণীরা গৃহপালিত পশুর ওপর হামলা করে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও মানুষের সুবিধার মধ্যে একটি সুন্দর ভারসাম্য সৃষ্টি করাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।