আমদানিতেও কমছে না পেঁয়াজের দাম সবজির বাজারেও স্বস্তি ফেরেনি

শীতকালীন সবজির সরবরাহ ধীরে বাড়লেও বেশির ভাগ সবজিই বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই। ফলে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহেও পেঁয়াজ ও মৌসুমি সবজির বাজার ক্রেতাদের প্রত্যাশিত স্বস্তি এনে দিতে পারেনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition

পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি পাওয়ার পর বাজারে দাম কিছুটা কমার লক্ষণ দেখা দিলেও সাধারণ ক্রেতার তাতে খুব একটা লাভ হয়নি। একই সাথে শীতকালীন সবজির সরবরাহ ধীরে বাড়লেও বেশির ভাগ সবজিই বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই। ফলে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহেও পেঁয়াজ ও মৌসুমি সবজির বাজার ক্রেতাদের প্রত্যাশিত স্বস্তি এনে দিতে পারেনি।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। বাজারে গত মৌসুমের উৎপাদিত দেশী পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১৪০-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নতুন আসা মুড়িকাটা পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে ১২০-১৩০ টাকায়। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়।

বিক্রেতাদের অভিযোগ, দেশী পেঁয়াজের দাম বেশি থাকায় আমদানিকারকরা তুলনামূলক কম দামের বিদেশী পেঁয়াজও চড়া দামে বিক্রি করছেন। যদিও ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি মূল্য কেজিতে ১৫-১৬ রুপি, যা সবমিলিয়ে বাংলাদেশে ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। অথচ পাইকারিতে এই আমদানি করা পেঁয়াজের দামই এখন ৯০-১০০ টাকা।

কাওরান বাজারের এক আড়তদার জানান, বাজারে আমদানি করা ও মুড়িকাটা-দুটো পেঁয়াজেরই সরবরাহ খুব কম। অল্প পরিসরে আমদানি হচ্ছে, কিন্তু পাইকারিতে এখনো পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। সরবরাহ বাড়লে দামও কমবে। গত নভেম্বরের শুরুতেই পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। ৭০-৮০ টাকার পেঁয়াজ কয়েক দিনে উঠে যায় ১১০-১২০ টাকায়। এরপর গত ১০-১২ দিনে দাম আরো বাড়তে বাড়তে ১৫০-১৬০ টাকায় পৌঁছে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার আমদানির অনুমতি দিলেও সরবরাহ এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণে বাড়েনি।

এ দিকে বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, পেঁয়াজের চড়া দামের মাঝেও ভোক্তাদের স্বস্তি মিলছে আলুর বাজারে। নতুন আলু বাজারে আসায় প্রতি তিন কেজির প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায় অর্থাৎ প্রতি কেজি ৩৩ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে। গত দুই সপ্তাহেই আলুর দাম নেমে এসেছে ৪০ টাকার নিচে। তবে শীতকালীন অন্যান্য সবজির বাজারে তেমন স্বস্তি নেই। বেগুন, শসা, করলা, মরিচ, শিম, ফুলকপি সবই প্রায় আগের দামে বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর বাজারগুলোতে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া বেগুন এ সপ্তাহে কিছুটা কমে ৬০ টাকা হয়েছে। মুলা ৩০ টাকা, কুমড়া ৪০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা এবং গাজর ৬০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ফুলকপি ও বাঁধাকপি- দু’টিই মাঝারি সাইজে ৩০-৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, যা কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দেয়। শিম ৬০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ৮০ টাকা কেজি দরে স্থির রয়েছে।

বিক্রেতাদের দাবি, সবজির চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ পুরোপুরি বাড়েনি। তাই দাম আগের মতোই রাখা হচ্ছে।

মোহাম্মদপুর টাউন হলের ব্যবসায়ী জসিম বলেন, শীত পড়ছে ঠিকই, কিন্তু সরবরাহ এখনো বাড়েনি। সামনে পরিস্থিতি ভালো হবে বলে আশা করছি। এ দিকে ক্রেতারা বলছেন, শীত এলেও সবজির বাজারে সেই ছোঁয়া নেই। একজন ক্রেতা বলেন, সবজির দাম এখনো বেশি। প্রতি সপ্তাহে বাজারে আসছি চাপ নিয়ে।

এ দিকে সবজির দামে স্বস্তি না থাকলেও কয়েক মাস ধরে ডিম ও মুরগির দাম কমতির দিকে। ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১১৫-১২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি ১৬০-১৭০ টাকায়, সোনালি মুরগি ২৫০-২৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পোল্ট্রি ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতকালে সবজির সরবরাহ বাড়লে গোশত ও ডিমের চাহিদা কিছুটা কমে যায়, তাই দামও কমে।

অন্য দিকে গত সপ্তাহে সয়াবিন ও পামতেলের দাম আবার বেড়েছে। বোতলজাত সয়াবিনের লিটারপ্রতি দাম ১৮৯ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৫ টাকায়। খোলা সয়াবিন এখন ১৭৬ টাকা এবং পামতেল ১৬৬ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিনের দামও ৯২২ টাকা থেকে বেড়ে ৯৫৫ টাকায় পৌঁছেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পেঁয়াজের অস্থির বাজার এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আমদানির পরও সরবরাহ কম, দাম বেশি। নতুন আলুর বাজারে স্বস্তি থাকলেও মৌসুমি সবজির বেশির ভাগই বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই। এর সাথে যুক্ত হয়েছে তেলের বাড়তি দাম। সব মিলিয়ে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়েও রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির পর্যায়ে নামেনি বলে তারা মনে করছেন।