নয়া দিগন্ত ডেস্ক
বিএনপির সদ্য বিদায়ী মহাসচিব ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মির্জা ফখরুল ইসলাম দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন দলের নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা গতকাল অভিনন্দন জানিয়েছেন।
বিরোধীদলীয় নেতার অভিনন্দন
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান। গতকাল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই অভিনন্দন জানান।
পোস্টে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, আজ ২০ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এই নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হওয়ায় আমি তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি।
তিনি বলেন, আগামী দিনগুলোতে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে ইনসাফ কায়েম, গণতন্ত্রকে সমুন্নতকরণ এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রায় তিনি তার সর্বোচ্চ যোগ্যতা ও প্রজ্ঞাকে কাজে লাগাবেন বলে আমি আশাবাদ ব্যক্ত করতে চাই।
অভিনন্দনবার্তায় জামায়াত আমির আরো বলেন, আমি নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
ড. ইউনূস
সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। গতকাল এক বার্তায় তিনি এ শুভেচ্ছা জানান।
অভিনন্দনবার্তায় তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক যাত্রা পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তার সাংগঠনিক দতা, প্রজ্ঞা, সঙ্কটময় সময়ে নেতৃত্ব এবং তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ব্যাপক অভিজ্ঞতা দেশের জাতীয় রাজনীতিতে একজন স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, একজন শিাবিদ, একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং নীতিবান ব্যক্তি হিসেবে, তিনি (মির্জা ফখরুল) এই নতুন দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক অফিসের মর্যাদাকে আরো সমুন্নত রাখবেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বৃহত্তর সমৃদ্ধি, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছি। আমি মহামান্যের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু এবং দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করি।
কর্নেল (অব:) অলি আহমদ
রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব:) অলি আহমদ। গতকাল বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে অলি আহমদ এ আগাম শুভেচ্ছা জানান।
তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তার সাথে একই সাথে অনেক দিন কাজ করেছি। তার কাছ থেকে আমরা অনেক কিছু ভালো জিনিস আশা করি। আমাকে যারা সমর্থন করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।
ড. কামাল হোসেন
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন গণফোরামের এমিরেটাস সভাপতি কামাল হোসেন। গত সন্ধ্যায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো: মিজানুর রহমানের সই করা এক বিবৃতিতে এ শুভেচ্ছা জানানো হয়।
বিবৃতিতে ড. কামাল হোসেন বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী ভূমিকা পালন করেছেন। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে সরকারের দমনপীড়ন, নির্যাতন, মামলা ও কারাবাসের মধ্যেও রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের আমলে সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং একাদশ সংসদ নির্বাচনে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ নামে নির্বাচনী জোট গঠনে মির্জা ফখরুলের ভূমিকার কথা অভিনন্দনবার্তায় স্মরণ করে গণফোরামের এই প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আরো বলেন, একসাথে আন্দোলন করতে গিয়ে আমি তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দৃঢ়তা ও আপসহীন নেতৃত্ব দেখে মুগ্ধ হয়েছি। সর্বোপরি সরকারের নানামুখী ষড়যন্ত্রের মধ্যেও তিনি বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সম হয়েছেন।
মুসলিম লীগ : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা এবং তার মতো একজন যোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি অধ্য জুবেইদা কাদের চৌধুরী, স্থায়ী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন আবুড়ী, কেন্দ্রীয় নেতা এস আই ইসলাম মিলন, জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর ও তারেক ইবনে জমির আলী।
গতকাল এক বিবৃতিতে তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো একজন যোগ্য, অভিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়ে বিচণতার পরিচয় দিয়েছেন। আশা করি, তিনি (রাষ্ট্রপতি) দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সংবিধান, গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থ রায় দৃঢ় ভূমিকা পালন করবেন।
তারা আরো বলেন, রাষ্ট্রপতির দলীয় পরিচয়ের চেয়ে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে দৃঢ়তা ও নিরপেতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস জেনারেল নাসিমের মতা দখলের চেষ্টা প্রতিহত করতে যে দৃঢ় ভূমিকা রেখেছিলেন, তা এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বিপরীতে ২০০৭ সালের রাজনৈতিক সঙ্কটে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।



