নয়া দিগন্ত ডেস্ক
নেপালের পার্লামেন্টে সদ্য নির্বাচিত প্রতিনিধি পরিষদে এবার বড় ধরনের প্রজন্মগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। সর্বশেষ নির্বাচনের ফলাফলে তরুণ আইনপ্রণেতাদের শক্তিশালী উপস্থিতি সামনে এসেছে।
এ দিকে সফল ও শান্তিপূর্ণ সংসদীয় নির্বাচনের জন্য নেপালের সরকার এবং জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ অভিনন্দন জানান।
এই নির্বাচনে নেপালের নি¤œকক্ষ পার্লামেন্টের জন্য ২৭৫ জন নতুন প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। ১৬৫টি আসন সরাসরি নির্বাচিত হয় এবং ১১০টি আসন আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে নির্বাচিত। এএফপি।
সব ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রকাশিত ফল অনুযায়ী শাহের আরএসপি ১৬৫টি প্রত্যক্ষ ভোটের আসনের মধ্যে ১২৫টি এবং ১১০টি আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের আসনের মধ্যে ৫৮টি জিতেছে। অলির দল প্রত্যক্ষ ভোটের আসনের মধ্যে আটটি এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের আসনের মধ্যে ১৬টি জিতেছে। দলের একজন মুখপাত্র ফলাফলকে ‘অপ্রত্যাশিত’ বলে অভিহিত করেছেন।
এবার তরুণ প্রতিনিধিদের এই উত্থানের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টি (আরএসপি)। ৪০ বছরের নিচের বয়সী প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে দলটির। নির্বাচনী ফলাফল আরো দেখায়, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী আইনপ্রণেতাদেরও শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। এখন পর্যন্ত এই বয়সসীমায় ৫৫ জন প্রার্থী প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়েছেন। এখানেও আরএসপির দাপট স্পষ্টÑ এই বয়সসীমায় দলটির ৪১ জন প্রতিনিধি রয়েছেন। একই বয়সসীমায় নেপালি কংগ্রেসের পাঁচজন, নেপালি কমিউনিস্ট পার্টির চারজন, ইউএমএলের তিনজন এবং শ্রম সংস্কৃতি পার্টির দুইজন প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী প্রার্থীরাও নতুন পার্লামেন্টে উল্লেখযোগ্য একটি গোষ্ঠী। এখন পর্যন্ত এই বয়সসীমায় ৩৬ জন আইনপ্রণেতা নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৮ জন আরএসপির, চারজন নেপালি কংগ্রেসের। এ ছাড়া ইউএমএল ও নেপালি কমিউনিস্ট পার্টির দুইজন করে প্রতিনিধি এই শ্রেণীতে পড়েছেন। বিপরীতে, ৬০ বছরের বেশি বয়সী প্রার্থীদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। পার্লামেন্টে তরুণ নেতৃত্বের উপস্থিতি বাড়ার সাথে সাথে প্রতিনিধি পরিষদে ৬০ বছরের বেশি বয়সী নির্বাচিত সদস্যের সংখ্যা অনেক কম দেখা যাচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, ৬০ বছরের বেশি বয়সী মাত্র ৯ জন প্রার্থী প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের অধিকাংশই প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের হলেও কয়েকজন স্বতন্ত্র বা নতুন রাজনৈতিক শক্তির সাথে যুক্ত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুচেতা পাকুরিয়ালের মতে, তরুণ নেতৃত্বের উত্থান নীতিগত অগ্রাধিকারে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষা, ডিজিটাল শাসনব্যবস্থা, জলবায়ু নীতি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আসতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রশাসনিক কাঠামো এখনো মূলত পুরনো প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ফলে তরুণ রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং আমলাতন্ত্রের মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, ‘শুধু জনপ্রিয় সেøাগান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়। পর্যাপ্ত গবেষণা ছাড়া প্রণীত জনপ্রিয়তাবাদী নীতি দীর্ঘ মেয়াদে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।’ তার মতে, তরুণ নেতৃত্বকে ঘিরে জনমনে প্রায় ‘৭০ শতাংশ আশা এবং ৩০ শতাংশ সংশয়’ রয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘অভিজ্ঞতা ও নতুন চিন্তার মধ্যে যদি একটি ভারসাম্য তৈরি করা যায়, তা হলে নেপালের শাসনব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।’
তরুণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক নবীন তিওয়ারি পার্লামেন্টে যুব প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধিকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখলেও মনে করেন, শুধু বয়সের ভিত্তিতে পরিবর্তনের আশা করা ঠিক হবে না। তার মতে, রাজনীতিতে বয়সের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য, সততা এবং দৃষ্টিভঙ্গির স্বচ্ছতা। তিনি বলেন, ‘তরুণ নেতাদের নির্বাচিত হওয়া অবশ্যই ইতিবাচক বিষয়। কিন্তু রাজনীতিতে বয়স একমাত্র নির্ধারক নয়। আসল বিষয় হলো তাদের উদ্দেশ্য, সততা এবং নেতৃত্ব সমাজে কী ধরনের প্রভাব তৈরি করে।’



