বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬

কেন প্যারাগুয়েকে হারাতে এত কষ্ট ফ্রান্সের

Printed Edition
প্যারাগুয়ের জালে পেনাল্টিতে দলের একমাত্র গোলটি করছেন ফ্রান্স ফরোয়ার্ড এমবাপ্পে  : ইন্টারনেট
প্যারাগুয়ের জালে পেনাল্টিতে দলের একমাত্র গোলটি করছেন ফ্রান্স ফরোয়ার্ড এমবাপ্পে : ইন্টারনেট

ল্যাটিন আমেরিকান দেশ প্যারাগুয়ে। দুই আসরের বিরতির পর এবার ফের তারা খেলল বিশ্বকাপে। তবে অতীতের মতো নকআউটে এসেই ছিটকে পড়তে হলো তাদের। আর ১৯৯৮ বিশ্বকাপের মতো এবারো তাদের বাদ পড়তে হলো ফ্রান্সের কাছে হেরে। ম্যাচের জয়-পরাজয় নির্ধারণী গোল সংখ্যা সেই পুরনো ০-১-ই। নিজ মাঠে ১৯৯৮ সালে লরেন্ট ব্ল্যাংকের গোলে দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলায় জিতেছিল ফরাসিরা। এবার পেনাল্টিতে উদ্ধার দলের। ত্রাণকর্তা এবার কিলিয়ান এমবাপ্পে। এতে বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধারের মিশনে আর তিন ম্যাচ দূরে জিনেদিন জিদানের দেশ। এখন তাদের সেমিতে যেতে কোয়ার্টার ফাইনালে লড়তে হবে মরক্কোর বিপক্ষে। যারা সেরা ৩২-এর ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারানোর পর পরশু সেরা ১৬-এর খেলায় হারিয়ে দিয়েছে কানাডাকে। এবারের বিশ্বকাপের এই সহআয়োজকদের হারিয়েছে ৩-০ গোলে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়াতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। এমবাপ্পের একাধিক শটসহ ফরাসিদের আরো কয়েকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন তিনি। যে কারণে শেষ পর্যন্ত এক গোলেই প্যারাগুয়ে হার্ডল পার হয় ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়নদের।

কোনোকালেই ফুটবলে আহামরি কোনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ছিল না প্যারাগুয়ে। বিশ্বকাপেও নেই তাদের বড় কোনো সাফল্য। কিন্তু সেরা ৩২-এর ম্যাচ জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে বিদায় করে হইচই ফেলে দেয়। তাই অনেকেরই ধারণা ছিল ফ্রান্সকেও বিপদে ফেলতে পারে তারা। আসলে এই ধরনের দলগুলো এক-দুই ম্যাচেই চমক দেখাতে পারে। বেশিদূর যেতে পারে না।

অবশ্য টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনালিস্টদের ৬৯ মিনিট পর্যন্ত ঠেকিয়ে রেখেছিল। শক্তিশালী ডিফেন্স লাইনের জন্য বরাবরই নামকরা এই প্যারাগুয়াইনরা। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে তারা দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে ৯০ মিনিটেও কোনো গোল করতে দেয়নি। পোস্টের নিচে হোসে চিলাভার্ট, ডিফেন্সে আয়ালা, গামারারা অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিল ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত ফরাসি ডিফেন্ডার লরেন্ত ব্ল্যাঙ্কের ডান পায়ের ভলিতে করা গোলে ১-০তে জয়। ব্ল্যাঙ্কের সেই গোলটি বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম গোল্ডেন গোল। তখন নিয়ম ছিল অতিরিক্ত সময়ে গোল হলেই খেলা শেষ।

ইউরোপিয়ান ফুটবলের চেয়ে ল্যাটিন ফুটবলের স্টাইলটা ভিন্ন। এই দক্ষিণ আমেরিকানদের বিপক্ষে জেতাটা বেশ কঠিনই ইউরোপিয়ানদের জন্য। ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম জানান, ‘দক্ষিণ আমেরিকানদের বিপক্ষে খেলে জিতে আসাটা বেশ দুঃসাধ্য। ওরা অতি রক্ষণাত্মক খেলে। প্রতিপক্ষকে আটকানোর সব চেষ্টাই করে। আসলে মানুষ এমন ফুটবল দেখতে স্টেডিয়ামে আসে না। প্যারাগুয়ে দারুণ রক্ষণাত্মক কৌশল প্রয়োগ করেছে।’

ফ্রান্সের কোচ সমালোচনা করেছেন রেফারিরও। কারণ তিনি ম্যাচটি নিয়ন্ত্রণই করতে পারেননি। এত ফাউল করার পরও ৯০ মিনিটের ম্যাচে কোনো হলুদ কার্ড দেখানো হয়নি প্যারাগুয়ের কোনো ফুটবলারকে। যোগ করেন, ‘প্যারাগুয়ের ফুটবলাররা শুরু থেকেই ফাউল করে খেলা শুরু করে এবং এমবাপ্পেকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করে। ধন্যবাদ এমবাপ্পেকে। সে মাঠে খুবই শান্ত ছিল।’

ফরাসি ফুটবলার উইলিয়াম সাবিলা বলেন, আমরা এই বিশ্বকাপের অন্য ম্যাচগুলোতে ৩টি করে গোল দিয়ে জিতে এসেছি। কিন্তু এই ম্যাচে আমরা একটির বেশি গোল দিতে পারিনি।’ প্যারাগুয়ের ফুটবলাররা ফাউল করে খেলার মানসিকতা নিয়েই মাঠে আসে। আমাদের নানানভাবে উত্তেজিত করতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে ভালো খেলা উপহার দেয়াটা বেশ কঠিন। এরপরও আমরা আমাদের খেলায় মনযোগী ছিলাম। যে কারণে জিতে আসতে পেরেছি।’

ফরাসি ফুটবলার রায়ান চেরকির মতে, ‘ওরাতো খেলা নয় যেন যুদ্ধ করতে এসেছিল। তবে এ ধরনের ম্যাচ আমাদের বেশ উপকারে দেবে। আমাদেরতো আরো ম্যাচ বাকি আছে।’