বুড়িগঙ্গা থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন, ভাঙনের শঙ্কায় নদীপাড়ের মানুষ

Printed Edition

ঢাকা জেলা প্রতিনিধি

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কোন্ডা ইউনিয়নের জাজিরা বোটঘাট এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদী থেকে প্রকাশ্যে গ্র্যাব ড্রেজার বসিয়ে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সংঘবদ্ধ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নদীর তলদেশ থেকে মাটি তুলে ট্রলারের মাধ্যমে ইটভাটায় বিক্রি করছে। এতে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে ভাঙনের আশঙ্কা বাড়ছে।

সম্প্রতি সরজমিনে দেখা গেছে, নদীর মাঝখানে কয়েকটি ট্রলার ও গ্র্যাব ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। পরে সেই মাটি ট্রলারে করে বিভিন্ন ইটভাটায় নেয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতি ট্রলার মাটি প্রায় পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এভাবে গ্র্যাব ড্রেজার দিয়ে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, জাজিরা এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর বিভিন্ন স্থানে ১০টির বেশি গ্র্যাব ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করছে একাধিক চক্র। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অর্ধশতাধিক ট্রলারের মাধ্যমে এসব মাটি পরিবহন করা হয়।

নদীপাড়ের বাসিন্দারা বলছেন, এভাবে নদীর তলদেশ থেকে মাটি উত্তোলনের কারণে বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন বাড়তে পারে। এতে বসতভিটা ও আশপাশের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিক বলেন, মেশিন দিয়ে প্রকাশ্যে নদীর মাটি তুলে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এ কাজ করছেন। কেউ প্রতিবাদ করলে হুমকি দেয়া হয়।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ইটভাটার মালিক ও সংশ্লিষ্ট চক্র প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারছেন না। নদী থেকে মাটি উত্তোলনের কারণে আশপাশের কৃষিজমিও ক্ষতির মুখে পড়ছে।

তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, বুড়িগঙ্গা নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উমর ফারুক বলেন, অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।