আমিনুর রহমান বাবুল পাটগ্রাম (লালমনিরহাট)
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের বুক চিরে বয়ে গেছে তিস্তা নদী। ভারতবেষ্টিত এই ইউনিয়নের একমাত্র প্রবেশপথ তিনবিঘা করিডোর। ছোট্ট এই ইউনিয়নটিকে গ্রাস করেছে তিস্তা নদী। তিস্তার ভয়াল থাবায় ইতোমধ্যে নদীতে চলে গেছে শত শত হেক্টর জমি। এতে এলাকার অনেকেই যেমন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন, তেমনি ইউনিয়নটির আয়তনও হয়ে গেছে সঙ্কীর্ণ। তবে এলাকার কিছু মানুষ চরের এই বালুতে তাদের স্বপ্ন দেখার গল্প বুনছেন। আর তাই তারা হাতে নিয়েছেন কৃষি প্রকল্প হিসেবে বিস্তীর্ণ বালুরাশিতে তরমুজ চাষাবাদের বিশাল কর্মযজ্ঞ। এতে সফলতাও পেয়েছেন। তাদের স্বপ্ন সারথী হয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান ইমাম। তিনি উদ্যোক্তাদের সার কীটনাশকসহ সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন।
দহগ্রামের স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তা ও জামায়াত নেতা মোস্তফা কামাল নয়া দিগন্তের এই প্রতিনিধিকে জানান, আমি তিস্তার মহিমপাড়া চরে ৭০ বিঘা জমিতে গত ৪ ডিসেম্বর ৬০ হাজার তরমুজের চারা লাগিয়েছি। ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত আমার ব্যয় হবে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। আমি আশা করছি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এখান থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আয় হবে। ভারত কর্তৃক দীর্ঘদিন নিষ্পেষিত অবহেলিত এই জনপদের দহগ্রাম ইউনিয়ন জামায়াতের এই সেক্রেটারি আরো জানান, চার-পাঁচ বছর আগে বর্ষা মৌসুমে অজস্র চারা ফলসহ ভারত থেকে ভেসে এসেছিল। আমরা সেই চারা সংরক্ষণ করে প্রথমে বাড়ির পাশে সামান্য জমিতে লাগাই, কিন্তু সফলতা আসেনি। এরপর বাণিজ্যিকভাবে শুরু করি, তাতেও ব্যর্থ হই। তবুও হাল ছাড়িনি। অবশেষে গত বছর প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। ওই বছর চার হাজার চারা রোপণ করে ১০ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করি।
এ দিকে মোস্তফার এই সফলতা দেখে এলাকার অন্য উদ্যোক্তারাও তরমুজ চাষে এগিয়ে এসেছেন। তার এলাকারই আবদুল মোতালেব সর্দারপাড়ার চরে ৫০ বিঘায় ২০ হাজার চারা লাগিয়েছেন। তাদের পাশাপাশি অন্যরাও এগিয়ে এসেছেন তরমুজ চাষাবাদে। এভাবে দহগ্রামের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে তরমুজ চাষাবাদ। যেখান থেকে তারা কোটি টাকা আয় করার স্বপ্ন দেখছেন।
উদ্যোক্তা মোস্তফা জানান, তারা প্রথমে শুধু জৈব সার দিয়ে চারা রোপণ করেছেন। এরপর ছত্রাকনাশক স্প্রে এবং গাছের গোড়ায় পানি দেয়াসহ টিএসপি পটাশ দস্তাসহ বিভিন্ন রাসায়নিক সার প্রয়োগ করবেন। এ কাজে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সার ও কীটনাশকসহ বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সার্বিক সহযোগিতা করছেন।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান ইমাম বলেন, গতানুগতিক কৃষির বাইরে ফসল ফলিয়ে কৃষক যাতে লাভবান হতে পারেন, সে জন্য ওই সব ফসলে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে যেসব অনাবাদি, পতিত ও চরের জমি রয়েছে; সেসব কৃষিশূন্য এলাকাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এবারই প্রথম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে দহগ্রামে তিস্তার চরে ব্যাপক তরমুজ চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ৪০-৫০ জন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে বিরাট কৃষি ক্ষেত্র। আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে এই কৃষি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে তাদের সার্বিক সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।



