শারমিন নাহার ঝর্ণা
সবুজ শ্যামল অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা গ্রাম, গ্রামের নাম আখরজানি। সেই অপরূপ সৌন্দর্য গ্রামে থাকত অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র লাবিব। লাবিবের বয়স মাত্র দশ বছর পঞ্চম শ্রেণীতে আখরজানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। লাবিব প্রতিদিন সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় স্কুলের সামনে উড়তে থাকা লাল-সবুজের পতাকাটার দিকে তাকিয়ে থাকত। তার চোখে পতাকাটা যেন নাচত বাতাসে, হাসত সূর্যের আলোয়। সে ভাবত এই পতাকা এত সুন্দর কেন? একদিন লাবিব তার দাদুকে জিজ্ঞেস করল, দাদু আমাদের পতাকাটা লাল-সবুজ কেন? দাদু হেসে বললেন, দাদু ভাই, এই পতাকা শুধু কাপড় নয়, এটা আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক। সবুজ রঙ মানে আমাদের দেশের প্রকৃতি মাঠ, নদী আর শস্যভরা গ্রাম। আর মাঝের লাল বৃত্ত মানে আমাদের সেই শহীদদের রক্ত যারা এই দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। লাবিব অবাক হয়ে শুনছিল। দাদু আরো বললেন, অনেক বছর আগে আমাদের দেশ পরাধীন ছিল। তখন মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারত না। কিন্তু আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণ দিয়ে এই দেশকে মুক্ত করেছিলেন। তাদের সাহস, ভালোবাসা আর ত্যাগের ফলেই আজ আমরা স্বাধীন। লাবিবের মনে তখন এক অদ্ভুত গর্বের ঢেউ উঠল। সে ভাবল আমিও একদিন দেশের জন্য কিছু করব। পরদিন স্কুলে গিয়ে সে বন্ধুদের সব কথা বলল। সবাই মিলে ঠিক করল, তারা বিজয় দিবসে স্কুলের মাঠে বড় একটি পতাকা বানাবে। সবাই বাড়ি থেকে পুরোনো কাপড় জোগাড় করল। কেউ সুতা দিলো, কেউ রং আনল। লাবিব নিজে হাতে লাল বৃত্ত আঁকল। পতাকা তৈরি হলে তারা সেটি উঁচু খুঁটিতে টাঙাল। বাতাসে পতাকাটি যখন দুলে উঠল, সবাই একসাথে বলল লাল-সবুজের স্বাধীন পতাকা আমরা স্বাধীন। তাদের চোখে আনন্দের অশ্রু, মুখে হাসি যেন ছোট ছোট বীররা নিজেদের দেশকে ভালোবাসার প্রতিজ্ঞা করছে। সেই বিকেলে লাবিব স্কুল থেকে ফেরার পথে মাঠে বসে আকাশের দিকে তাকাল। সূর্য তখন ডুবে যাচ্ছে, আর আকাশের লালচে আলো যেন তার দেশের পতাকার রঙের মতো জ্বলজ্বল করছে। সে মনে মনে বলল, যে শহীদরা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন,আমি তাদের মতো সাহসী হতে চাই। সেদিন থেকে লাবিব প্রতিদিন পতাকাটির দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলে এই লাল-সবুজ পতাকাই আমার গর্ব। আমার ভালোবাসা আমার সোনার বাংলাদেশ। লাবিব আনমনে গেয়ে উঠল। ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনল যারা, আমরা তোমাদের ভুলব না।



