ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘এফে’ আজ সকাল ১০টায় মনতেরেরো স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে তিউনিসিয়া ও জাপান। ম্যাচটি শুধু গ্রুপপর্বের গুরুত্বপূর্ণ লড়াই নয়, বিশ্বকাপ ইতিহাসেও বিশেষ জায়গা করে নিচ্ছে, কারণ এটিই হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের এক হাজারতম ম্যাচ।
প্রথম ম্যাচের হতাশা কাটিয়ে নতুনভাবে শুরু করতে নামছে তিউনিসিয়া। বিশ্বকাপে নিজেদের সপ্তম অংশগ্রহণের শুরুতেই সুইডেনের বিপক্ষে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে যায় উত্তর আফ্রিকার দলটি। সেই পরাজয়ের পরই দায়িত্ব হারান কোচ সাবরি লামুশি, যিনি মাত্র কয়েক মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত নতুন কোচ নিয়োগ দেয় তিউনিসিয়া ফুটবল কর্তৃপক্ষ। দলের দায়িত্ব নিয়েছেন অভিজ্ঞ ফরাসি কোচ হার্ভে রেনার্ড। এটি তার টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ, যেখানে তিনি তৃতীয় ভিন্ন দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এর আগে তিনি মরক্কো ও সৌদি আরবের কোচ ছিলেন।
বিশ্বকাপে রেনার্ডের সবচেয়ে আলোচিত সাফল্য আসে ২০২২ সালে, যখন তার অধীনে সৌদি আরব বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব ফুটবলে আলোড়ন তোলে। এবার তিউনিসিয়ার দায়িত্ব নিয়ে তিনিও চাইবেন দ্রুত প্রভাব দেখাতে।
তবে বাস্তবতা তিউনিসিয়ার পক্ষে খুব সুখকর নয়। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ আট আন্তর্জাতিক ম্যাচে তারা মাত্র একটি জয় পেয়েছে। সর্বশেষ তিন ম্যাচে দলটি মোট ১১ গোল হজম করেছে এবং করেছে মাত্র একটি গোল। তবুও আশার জায়গা আছে আগের দুই বিশ্বকাপেই অন্তত একটি করে ম্যাচ জিতেছিল তারা।
অন্যদিকে জাপান এই আসরে নিজেদের সম্ভাবনার প্রমাণ প্রথম ম্যাচেই দিয়েছে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দুইবার পিছিয়ে পড়েও ২-২ সমতায় ফিরেছে সামুরাই ব্লু। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে দাইচি কামাদার গোল দলকে মূল্যবান এক পয়েন্ট এনে দেয়।
কোচ হাজিমে মোরিয়াসু ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট থাকলেও জয় না পাওয়ায় কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেন। তবুও জাপান এখনো নকআউটে যাওয়ার শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
তবে এই ম্যাচে বড় ধাক্কা পেয়েছে তারা। তারকা আক্রমণভাগের খেলোয়াড় তাকেফুসা কুবো হাঁটুর চোটে ছিটকে গেছেন। ফলে আক্রমণে পরিবর্তন আনতে হতে পারে। রিতসু দোয়ান, দাইজেন মায়েদা ও আয়াসে উয়েদাকে নিয়ে নতুন আক্রমণভাগ সাজানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
অতীত পরিসংখ্যানও জাপানের পক্ষেই। দুই দলের শেষ ছয় দেখায় পাঁচটিতেই জয় পেয়েছে জাপান। তবে চার বছর আগে কিরিন কাপের ফাইনালে তিউনিসিয়া ৩-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল।



