ভিয়েতনামে পাচার হওয়া ৪০০ বিড়াল উদ্ধার, গ্রেফতার ৯

Printed Edition
ভিয়েতনামে পাচার হওয়া ৪০০ বিড়াল উদ্ধার, গ্রেফতার ৯
ভিয়েতনামে পাচার হওয়া ৪০০ বিড়াল উদ্ধার, গ্রেফতার ৯

বিবিসি

ভিয়েতনামে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মাংস বিক্রির জন্য চুরি করা চার শতাধিক জীবিত বিড়াল অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একইসাথে বিড়াল চুরির আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় চক্রের ৯ জন সক্রিয় সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার ভিয়েতনামের একটি শীর্ষস্থানীয় প্রাণীকল্যাণ সংস্থা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।

হো চি মিন সিটি পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে তায় নিনহ প্রদেশ ও হো চি মিন সিটির বিভিন্ন দুর্গম আস্তানায় একযোগে ঝটিকা অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে ৪০০-এর বেশি জীবিত বিড়াল এবং প্রায় ৮০টি হিমায়িত বিড়ালের লাশ উদ্ধার করা হয়। এর বাইরে পৃথক আরেকটি গোপন আস্তানা থেকে আরো ২১টি বিড়াল জব্দ করে পুলিশ। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা মূলত বিড়াল চুরি ও তা অবৈধভাবে সংগ্রহ করায় বিশেষভাবে দক্ষ। এই চক্রটি গত তিন বছর ধরে দক্ষিণ ভিয়েতনামের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে কৌশলে বিড়াল ধরে এনে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে আসছিল। প্রতি দুই-তিন দিন পর পর তারা চুরির এই সব পোষা প্রাণী একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রে জমা করত এবং সেখান থেকে তা পাচার করা হতো।

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হো চি মিন সিটিতে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক পোষা বিড়াল নিখোঁজ ও চুরির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে গত ১১ জুন পুলিশ এই বিশাল চক্রের সন্ধান পায়। বর্তমানে এই চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এদিকে যাদের শখের পোষা বিড়াল চুরি হয়েছিল, তাদের উদ্ধার করা প্রাণীগুলো শনাক্ত করতে সরাসরি পুলিশ ক্যাম্পে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রাণীকল্যাণ সংস্থা ‘হিউম্যান ওয়ার্ল্ড ফর অ্যানিমেলস’ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বিড়ালগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৪০টিকে তাদের প্রকৃত মালিকদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় খাঁচাবন্দী থাকা এবং চুরির সময় গুরুতর আঘাত পাওয়ার কারণে বেশ কয়েকটি বিড়াল পরে মারা গেছে। বর্তমানে যেগুলো পুলিশের হেফাজতে রয়েছে, সেগুলোকে নিয়মিত খাবার, ওষুধ ও বিশেষ পরিচর্যা দেয়া হচ্ছে।

ভিয়েতনামের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া বৈধ হলেও বিক্রেতাদের জন্য সরকারি লাইসেন্স থাকা এবং প্রাণীগুলোর বৈধ উৎস উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। ওই সংস্থার পরিসংখ্যান অনুসারে, দেশটিতে প্রতি বছর প্রায় ৫০ লাখ কুকুর এবং ১০ লাখ বিড়াল মাংসের বাণিজ্যিক চাহিদার কারণে চোরাশিকারিদের দ্বারা ধরা, চুরি ও পাচার হয়ে থাকে। চুরির সময় সাধারণত কুকুর ধরতে বিষ মেশানো ফাঁদ, টেজার কিংবা লোহার চিমটি ব্যবহার করা হলেও বিড়ালের ক্ষেত্রে স্প্রিংযুক্ত বিশেষ ফাঁদের আশ্রয় নেয় অপরাধীরা। অবশ্য সাম্প্রতিক বছরগুলোয়, বিশেষ করে ভিয়েতনামের তরুণ প্রজন্ম এবং পোষা প্রাণীর মালিকদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে এই নিষ্ঠুর প্রথার বিরুদ্ধে ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা তৈরি হচ্ছে। ২০২৩ সালের একটি জাতীয় জরিপে দেখা গেছে, দেশটির সিংহভাগ মানুষই এখন কুকুর-বিড়ালের মাংসের এই অমানবিক বাণিজ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পক্ষে নিজেদের মত দিয়েছেন। বিড়াল পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের এই সময়োচিত ও বড় অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক প্রাণীকল্যাণ সংস্থাগুলো।