সূর্যের দেখা নেই ৩ দিন ধরে

শীতে কাঁপছে সিলেট বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ

Printed Edition

সিলেট ব্যুরো

সিলেটের আকাশ জমিন কুয়াশার চাদরে ঢাকা। তিন দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, সিলেটে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে।

পৌষের মাঝামাঝিতে শীতে কাঁপছে পুরো সিলেট। গত বছর এমন সময় তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রিতে ওঠানামা করলেও এবছর ৩ ডিগ্রি কমে তাপমাত্রা নেমেছে ৯ ডিগ্রিতে। কনকনে ঠাণ্ডা আর হিমেল হাওয়ায় নগরজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা রাস্তাঘাটে লোক চলাচল কমে গেছে। নগরের মার্কেট বিপণিবিতানে দোকানপাট খুলেছে কম।

তীব্র শীতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দিনমজুর ও নি¤œ আয়ের মানুষরা। শীতবস্ত্রের অভাবে খেটে খাওয়া মানুষরা অভাবনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ছিন্নমূল এসব মানুষের সহযোগিতায় নেই তেমন সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, গত ২৯ ডিসেম্বর থেকে সিলেটে জেঁকে বসেছে শীত। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায় চারপাশ। গত চার দিনের মাঝে তিন দিনই শুধু সকাল নয়, পুরো দিনই ছিল কুয়াশায় ঢাকা। সাথে উত্তরের হিমেল বাতাস। আলো ঝলমলে সূর্যের দেখা মিলেনি একবারও।

গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে জেলার সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি শীত মৌসুমে জেলায় সর্বনিম্ন। শুক্রবারও তাপমাত্রা ১০.২ ডিগ্রির ঘরে ছিল।

আবহাওয়া অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে ওই অবস্থাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। ৮ থেকে ৬ দশমিক ১ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি এবং ৬ থেকে ৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শীতের প্রকোপে গত কয়েক দিন ধরেই নগরের ভেতরে যান চলাচল কম। মানুষের চলাচলও সীমিত। অনেক দোকানপাট খুলেছে দেরিতে।

নগরের জিন্দাবাজার এলাকার এক মুদিদোকানি বলেন, সাধারণত তিনি সকাল ৮টার দিকে দোকান খোলেন। তবে কয়েক দিন ধরে শীত বাড়ায় সকাল বেলা ক্রেতা কম থাকছে। শীত আরো বেশি থাকায় দেরিতে দোকান খুলেছেন।

এদিকে শীত বাড়ার সাথে সাথে শীতবস্ত্রের বিক্রি বেড়েছে। কানিজ প্লাজা বিপণিবিতানের শীতের এক পোশাক ব্যবসায়ী বলেন, কয়েক দিন ধরে শীতের কাপড়ের চাহিদা বেড়েছে। সিলেটে সারা বছরই শীতের কাপড় বিক্রি হলেও সাম্প্রতিক ঠাণ্ডায় বিক্রি প্রায় পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে।

অপরদিকে এই শীতে সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর ও বয়স্ক মানুষরা। দিনমজুর ও ছিন্নমূল মানুষের সাহায্যার্থে এখনো সরকারি উদ্যোগে কোনো শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়নি। বেসরকারি উদ্যোগও নেই। এসব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো সামর্থ্যবানদের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করেন তরুণ সমাজসেবী মো: বেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, শীতার্তদের পাশে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত। পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগও প্রয়োজন।

রিকশা চালক আকুল মিয়া বলেন, তীব্র শীতেও পেটের দায়ে রিকশা নিয়ে বের হতে হয়। শীতবস্ত্র না থাকায় রিকশা চালাতে খুব বেশি কষ্ট হয়। বন্দরবাজারের দিনমজুর গৌতম দাস বলেন, আমরা শ্রমিক মানুষ। দিনে আনি দিনে খাই। তাই শীত রৌদ্র যাই হোক, আমাদের কাজের সন্ধানে বের হতে হয়।

সিলেট আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ শাহ মো: সজীব হোসাইন নয়া দিগন্তকে শুক্রবার বিকেলে বলেন, সিলেটে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। আগামী এক সপ্তাহে তাপমাত্রা আরো কমতে পারে। জানুয়ারি সাধারণত শীতের মাস। অতীতে সিলেটে আরো কম তাপমাত্রা রেকর্ড হলেও গত কয়েক মৌসুমে শীতের তীব্রতা তুলনামূলক কম ছিল।

এদিকে, সিলেট ছাড়াও দেশের ১৭টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়ার নিয়মিত পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, সিলেট, মৌলভীবাজার, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, কুমিল্লা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে গতকাল। ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়াবিদদের মতে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমি স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, যার একটি বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।