৩২ কোটি টাকার নার্সিং কলেজ নির্মাণ অসমাপ্ত, ঠিকাদার নিখোঁজ

Printed Edition
৩২ কোটি টাকার নার্সিং কলেজ নির্মাণ অসমাপ্ত, ঠিকাদার নিখোঁজ
৩২ কোটি টাকার নার্সিং কলেজ নির্মাণ অসমাপ্ত, ঠিকাদার নিখোঁজ

আহসান হাবীব শিবচর (মাদারীপুর)

মাদারীপুরের শিবচরে ৩২ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন নার্সিং কলেজের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে থমকে দাঁড়িয়েছে। ২০২১ সালের ১০ মার্চ শুরু হওয়া প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ২০ জুন। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতির কাজ ও পরবর্তীকালে সরকার পতনের পর তারা নির্মাণ কাজ অসমাপ্ত রেখে পালিয়ে যায়। ৮৮ শতাংশ কাজ শেষ করে ২৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা বিল নিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন ঠিকাদাররা। এতে কলেজটি এখন পতিত জমিতে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় সেখানে গড়ে উঠেছে মাদকসেবীদের আড্ডাখানা।

মাদারীপুরের শিবচরের এই নার্সিং কলেজের নির্মাণকাজের ঠিকাদারি পায় রাজধানীর মিরপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমএনএইচসিএল ও এইচএমএইচই। তারা যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে। তবে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও কাজ শেষ না করায় তাদের কার্যক্রম বাতিল করে দেয় স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। জুলাই আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠান দু’টি কাজ ফেলে পালিয়ে যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নির্মাণাধীন ভবনে এখন কোনো কর্মকর্তা বা নিরাপত্তাকর্মী নেই। ফলে দীর্ঘ দিন ধরে ফেলে রাখা প্রকল্পটি অপরাধীদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন এখানে মাদক ও জুয়ার আড্ডা বসে। মূল্যবান নির্মাণসামগ্রী ও যন্ত্রপাতি চুরি হয়ে গেছে। ভবনটির চারপাশে ঘাস ও লতাপাতায় ছেয়ে গেছে। ভেতরে প্রবেশ করলেই মাদকদ্রব্যের গন্ধ ও ব্যবহৃত উপকরণ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা মো: বাবুল বেপারী বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম এ কলেজ চালু হলে স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। কিন্তু এখন এটি মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।’ স্থানীয় মেম্বার জহির হোসেন পাপ্পু বেপারী বলেন, ‘ভবনটি আমার বাড়ির পাশে। নিরাপত্তার অভাবে গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম চুরি হয়ে গেছে। দ্রুত কাজ শেষ হলে এলাকার স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়বে।’ শিক্ষক খাইরুল ইসলাম রাজীব মাস্টার দাবি করেন, দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে কলেজ চালু করলে ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙা হবে।

মাদারীপুরের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আহসান হাবীব জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালোতালিকাভুক্ত করা হয়েছে। পূর্ববর্তী টেন্ডার বাতিল করে নতুন দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে। খুব শিগগিরই অবশিষ্ট কাজ শেষ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এলাকাবাসীর দাবি, প্রকল্পটি যাতে আর অবহেলিত না থাকে ও দ্রুত শিক্ষাপ্রাঙ্গণে রূপ নেয়, সেদিকে সরকারের নজর দেয়া হোক।