ময়মনসিংহে ক্ষতিগ্রস্তদের চেক বিতরণ

সড়ক দুর্ঘটনা অপূরণীয় ক্ষতি, সচেতনতাই প্রধান সমাধান : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

Printed Edition

ময়মনসিংহ অফিস

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি বলেছেন, সড়ক দুর্ঘটনা একটি অপূরণীয় ক্ষতি; আর্থিক সহযোগিতা বা অন্য কোনো কিছুর বিনিময়ে এটি পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে সড়কে জনসাধারণের চলাচলে সচেতনতা বাড়লে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে। তিনি কেবল কর্তৃপক্ষের ওপর দোষারোপ না করে যানবাহন মালিক, চালক ও পথচারীসহ সবাইকে প্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের উদ্যোগে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ সার্কেলের অধীনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩৪টি পরিবার এবং আহত ১৬টি পরিবারসহ মোট ৫০টি পরিবারের মধ্যে এক কোটি ৯৬ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়। নিহত ব্যক্তির পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা এবং আহতদের শ্রেণিভেদে এক থেকে তিন লাখ টাকা করে এই আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে ১৯ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ময়মনসিংহ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ট্রাস্টি বোর্ড কর্তৃক এ যাবৎ মোট আট কোটি তিন লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠান কোনো আনন্দময় অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি মানবিক অনুষ্ঠান। সরকার চেকের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আংশিক সহযোগিতা করার চেষ্টা করছে মাত্র। দুর্ঘটনায় প্রায়ই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বা প্রধান ব্যক্তি নিহত অথবা পঙ্গু হয়ে যান, যা পুরো পরিবারকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়।’ তিনি বলেন, চালক ও পথচারী উভয়ের অসচেতনতাই দুর্ঘটনার মূল কারণ। অনেক সময় মোবাইলে কথা বলতে বলতে রাস্তা পারাপারের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে, অথচ তখন সব দোষ চালকের ওপর বর্তায়। আবার চালকেরাও গাড়ি চালানোর সময় মোবাইলে কথা বলেন এবং সিট বেল্ট বাঁধেন না। মহাসড়ক বা ব্রিজের পাশে ফুটপাথ দখল করে দোকানপাট বসানো এবং যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা থেকেও সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। ছোটদের স্কুলপর্যায় থেকে সচেতন করার পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের সচেতনতা বাড়াতে নতুন করে ভাবার তাগিদ দেন প্রতিমন্ত্রী।

ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকারের সভাপতিত্বে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ শাহনেওয়াজ মোর্শেদ অপুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান, ময়মনসিংহ জিলা মোটর মালিক সমিতির মহাসচিব রতন আকন্দ এবং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নজরুল ইসলাম। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষে তারাকান্দা উপজেলার স্কুল শিক্ষক গোলাম মাওলা সড়ক দুর্ঘটনায় তার স্কুলপড়ুয়া মৃত মেয়ে এবং আহত ছেলের স্মৃতিচারণ করে আবেগঘন বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও স্থানীয় বিএনপি নেতারা এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী নগরীর সার্কিট হাউজ সংলগ্ন লেডিস ক্লাবে বৃক্ষরোপণ করেন এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় মুনাজাতে অংশ নেন।