এফ এ আলমগীর চুয়াডাঙ্গা
বিদেশী ও ব্যয়বহুল ফল হিসেবে পরিচিত আলু বোখরা এখন আর কেবল আমদানিনির্ভর পণ্য নয়। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও উদ্যোক্তার আগ্রহ থাকলে বাংলাদেশের মাটিতেও এ ফলের বাণিজ্যিক উৎপাদন সম্ভব, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কৃষি উদ্যোক্তা সজলের সাফল্য সেই সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
ভিয়েতনামী জাতের আলু বোখরার ১০০টি গাছ নিয়ে গড়ে তোলা তার প্রদর্শনী বাগান এখন স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মাত্র দুই বছর তিন মাসের মাথায় প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ফল ধরেছে। বর্তমানে প্রতি গাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত ফল পাওয়া যাচ্ছে, যা অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত লাভজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে বিদেশী উচ্চমূল্যের ফল উৎপাদন বাড়াতে পারলে আমদানিনির্ভরতা কমার পাশাপাশি কৃষকদের আয় বৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। আলু বোখরা সেই সম্ভাবনাময় ফলগুলোর একটি।
গত ফেব্রুয়ারিতে গাছে ফুল আসার পর মাত্র দুই মাসের মধ্যে ফল পরিপক্ব হতে শুরু করে। তবে ফুল থেকে বাজারজাত উপযোগী ফল পেতে চার থেকে পাঁচ মাস সময় লাগে। ফলের উজ্জ্বল লালচে ও কালচে রঙ ক্রেতাদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করছে।
বাজারে আমদানিকৃত শুকনো আলু বোখরার দাম প্রতি কেজি এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা হলেও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কাঁচা ফল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনভিত্তিক বিপণনের কারণে বাগান থেকেই প্রায় সব ফল বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।
উদ্যোক্তা সজল জানান, বেলে কিংবা দোআঁশ মাটির পাশাপাশি বাড়ির ছাদে হাফ ড্রাম বা জিও ব্যাগেও সহজেই এ গাছ চাষ করা সম্ভব। ফলে শহুরে কৃষিতেও এটি সম্ভাবনাময় একটি ফল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তিনি আরো জানান, বীজ থেকে চারা উৎপাদন করলে ফল পেতে পাঁচ থেকে ছয় বছর সময় লাগে এবং ফলনও তুলনামূলক কম হয়। তাই নিজস্ব মাতৃগাছ থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উন্নতমানের কলমের চারা তৈরি করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিটি কলমের চারার দাম ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং রোপণের এক বছরের মধ্যেই এসব গাছে ফল আসে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চুয়াডাঙ্গায় কৃষক সজলের এই উদ্যোগ দেশের ফলচাষে বৈচিত্র্য আনতে পারে। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা মিললে আলু বোখরা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে।



