আ ফ ম নুরুল কাদের কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ায় সাঁতারু তৈরির লক্ষ্যে নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক সুবিধা সম্পন্ন সুইমিংপুল। রয়েছে প্রশস্ত পুল, দর্শক গ্যালারি ও প্রশিক্ষণের অবকাঠামো। ব্যয় হয়েছে বিপুল সরকারি অর্থ। উদ্দেশ্য ছিল জেলার সাঁতারকে এগিয়ে নেয়া এবং জাতীয় পর্যায়ের সাঁতারু তৈরি করা। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সুইমিংপুল আছে, নিয়মিত পানি নেই; অবকাঠামো আছে, নেই কার্যকর প্রশিক্ষণ। নেই সাঁতারুদের নিয়মিত আনাগোনাও।
অথচ শহর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে মিরপুর উপজেলার আমলা গ্রামের একটি সাধারণ পুকুর ও খালকে কেন্দ্র করে নিজেদের উদ্যোগে প্রশিক্ষণ নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য পাচ্ছেন কুষ্টিয়ার সাঁতারুরা। ফলে প্রশ্ন উঠেছে আধুনিক সুইমিংপুল নির্মাণের পরও সেটি কেন কাজে লাগছে না? সমস্যা কি অবকাঠামোর, নাকি ব্যবস্থাপনায়?
আধুনিক পুল, কিন্তু নেই সাঁতার : কুষ্টিয়া স্টেডিয়ামসংলগ্ন সুইমিংপুলটি বাইরে থেকে দেখলে আধুনিক ক্রীড়া স্থাপনারই প্রতিচ্ছবি। রয়েছে দর্শক গ্যালারি, পুল ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। কিন্তু বর্তমানে সেখানে নিয়মিত পানি নেই। নেই সাঁতারুদের আনাগোনা। দীর্ঘদিন কার্যকর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম না থাকায় স্থাপনাটি অনেকটাই নিষ্প্রাণ হয়ে পড়েছে।
সাঁতার সংগঠক খোকন সিরাজুল ইসলাম বলেন, সাঁতারে দেশব্যাপী কুষ্টিয়ার পরিচিতি থাকলেও জেলা শহরের সুইমিংপুলটি বর্তমানে অচলাবস্থায় রয়েছে। অথচ আমলার পুকুরে দেশসেরা সাঁতারুরা নিয়মিত অনুশীলন করছেন। তার মতে, জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচিত কমিটি থাকলে বর্তমান পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে জেলার খেলাধুলার পরিবেশ স্বাভাবিক করার দাবি জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, সুইমিংপুল পরিচালনায় জনবল সঙ্কট রয়েছে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও চালু নেই। পুলে পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনাও নিয়মিত নয়। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত স্থাপনাটির মূল উদ্দেশ্য সাঁতারু তৈরি ব্যাহত হচ্ছে।
জেলা ক্রীড়া অফিসার ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মো: তানভীর হোসেন বলেন, আগের দায়িত্বপ্রাপ্তদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সুইমিংপুলটি তারা ফিরিয়ে নেয়ায় এটি চালু ছিল না। পরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, এটি এনএসসির লিজভুক্ত স্থাপনা। তাই লিজ দেয়া ও ব্যবস্থাপনার বিষয়টি এনএসসিই নির্ধারণ করবে। জেলা ক্রীড়া সংস্থা শুধু দেখভাল করবে। তিনি জানান, সুইমিংপুলের আয় এনএসসির হিসাবে জমা হবে। বর্তমানে সেখানে শুধু একজন নাইট গার্ড রয়েছেন। পুলের অবস্থা মোটামুটি ভালো হলেও কিছু সরঞ্জাম নষ্ট হয়েছে। এনএসসির দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার আদনানের পুলটি মেরামত করার কথা থাকলেও আনুমানিক ২০ শতাংশ কাজ করে তিনি আর কাজ করেননি। বারবার যোগাযোগ করেও কাজ সম্পন্ন করানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সুইমিংপুল বন্ধ রয়েছে। এনএসসি চালু করে দিলে সেখানে আবার সাঁতার প্রশিক্ষণ শুরু করা হবে।
পুলের জায়গা নিয়েও প্রশ্ন : সুইমিংপুলের পানি ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের পাশাপাশি এর জায়গার ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সরেজমিন দেখা যায়, সুইমিংপুল ঘিরে জেলা ক্রীড়া সংস্থার অস্থায়ী অফিস ও গোডাউন ব্যবহারের পাশাপাশি গ্যালারি ও সিঁড়ির নিচের অংশে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা চলছে। ২৪ আগস্টের আগে তৎকালীন জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা নিজেরাই লিজ নিয়ে এটি পরিচালনা করতেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি সুইমিংপুলের ওপরের একটি কক্ষ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাকির হোসেন সরকারকে দাবা প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সেখানে ড. কাজী মোতাহার হোসেন দাবা একাডেমির কার্যক্রম চলছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার ৪৭টি অ্যাফিলিয়েটেড ক্লাবের কার্যক্রম সচল করার ক্ষেত্রে প্রশাসন যেখানে ব্যর্থতার অভিযোগের মুখে, সেখানে সুইমিংপুলের একটি কক্ষ সদ্য গঠিত একটি দাবা ক্লাবকে কিভাবে ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হলো তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।



