ভাষান্তর : শেখ আবদুল্লাহ নূর
(গত দিনের পর)
‘সেটা আমি জানি’, মেরিন্তারার কণ্ঠ আরো দৃঢ় হয়। সে বলে। ‘আর কোনো উপায় নেই আমার। একমাত্র জল-ডাইনি আন্দ্রারিণী-ই পারবে আমাকে মানুষের জগতে যাওয়ার পথ করে দিতে। আমার এই লেজের পরিবর্তে আমি মানুষের দুটো পা চাইব আন্দ্রারিণীর কাছে। কাজটি কেবলমাত্র ওই জল-ডাইনি-ই করতে পারবে। আর কেউ পারবো না।’
মেরিন্তারা আর দেরি করল না। লাউতান সিংহের প্রহরীদের চোখ এড়িয়ে সে সাঁতার দিলো দূর, বহুদূর সমুদ্রের দক্ষিণ-পূর্বকোণের দিকে; যেখানে বরফ শীতল গভীর জলের তলে অন্ধকার ফাটলের মতো কোনো এক গুহায় লুকিয়ে আছে জল-ডাইনি আন্দ্রারিণী!’
গুহাটি খুঁজে নিতে খুব একটা কষ্ট করতে হলো না মেরিন্তারার। জল-ডাইনির গুহার আশপাশে কোনো জলচর প্রাণীর আনাগোনা নেই। সমুদ্রের এই অংশটি বড়ই নিস্তব্ধ, শীতল ও ভয়ঙ্কর। গুহার মুখে বড় বড় কালো শ্যাওলা আর বিষাক্ত জেলিফিশের কঙ্কাল। মেরিন্তারা ভয়ে ভয়ে গুহার ভেতরে প্রবেশ করে। ভেতরে কোনো আলো নেই। শুধু এক কোণে একটা অদ্ভুত সবুজ আভার বিচ্ছুরণ হচ্ছে। (চলবে)



