ক্রীড়া প্রতিবেদক
মাঝের ওভারগুলোতেই ভারতীয় ব্যাটারদের একটু দমাতে পেরেছে পাকিস্তানের বোলাররা। তা না হলে আগাগোড়াই গ্রিন বোলারদের শাষণ করেছে ত্রিরঙ্গারা। টস ভাগ্যও ছিল পাকিস্তানের পক্ষে। টি-২০ বিশ্বকাপের এই হাই প্রোফাইল ম্যাচে আজ টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলী আগা। আবহাওয়ার পূর্বাভাসও মিলেনি। কিউরেটরদের পিচ প্রেডিকশনও ছিল ঠিকঠাক। টস হেরে আগে ব্যাট করে শেষ পর্যন্ত কুড়ি ওভারে ৮.৭৫ গড়ে সাত উইকেট হারিয়ে ভারতের সংগ্রহ ১৭৫। টি-২০ হিসেবে যা আদর্শ। ১৭৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করছে পাকিস্তান। এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত পাকিস্তান ১.২ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে ছয় রান করে।
টস সেরে উপস্থাপকের সাথে কথা শেষ করে সরে যান সালমান। ঠিক সেই সময় সামনে আসেন ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। পাশ কাটিয়ে গেলেও করমর্দন বা সৌজন্য বিনিময়ের কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি। গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া মুহূর্তটিকে আরো নাটকীয় করে তোলে। এ দৃশ্য নতুন নয়। গত আসরের এশিয়া কাপেও করমর্দন করেনি ভারতীয় অধিনায়ক। রাজনৈতিক টানাপড়েনের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি তখন থেকেই আলোচনায়। ভারতের সাবেক স্পিনার হরভজন সিং বলেছিলেন, হ্যান্ডশেক বাধ্যতামূলক কিছু নয়; এটি খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
মাঠের লড়াইয়ে পাকিস্তান অপরিবর্তিত একাদশ ধরে রেখেছে। ভারত দলে এনেছে দু’টি পরিবর্তন-ফিরেছেন অভিষেক শর্মা ও কুলদীপ যাদব। বাইরে গেছেন আর্শদীপ সিং ও সাঞ্জু স্যামসন। বল হাতে প্রথম ওভারে আসেন অধিনায়ক সালমান আগা। আর বল করতে এসেই ভারতীয় ওপেনার অভিষেক শর্মাকে সাজঘরে ফেরান সালমান। আউট হওয়ার আগে কোনো রানই করতে পারেননি অভিষেক।
দ্বিতীয় উইকেটে ব্যাট করতে নামা তিলক ভার্মাকে নিয়ে শুরুর চাপ সামলে নেন ওপেনার ইষাণ কিষাণ। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাট করতে থাকেন তিনি। মাত্র ২৭ বলেই তুলে নেন অর্ধশতক। সুযোগ ছিল সেঞ্চুরি পূর্ণ করার। কিন্তু সাইম আইয়ুব আর সেটা করতে দেননি। ইষাণ কিষাণের ইনিংস থামে ৭৭ রানে। মাত্র ৪০ বলে খেলা তার এই ইনিংসটি ১০টি চার ও তিনটি ছয়ে সাজানো ছিল।
এরপর তিলক ভার্মা ও সূর্যকুমার যাদব মিলে গড়েন ৩৭ রানের জুটি। সাইম আইয়ুবের করা বলে ২৪ রানে আউট হন তিলক। পরের বলেই সাজঘরের পথ ধরেন হার্দিক পান্ডিয়া। দীর্ঘক্ষণ ক্রিজে থাকলেও ব্যাট হাতে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি দলনেতা সূর্যকুমার যাদব। উসমান তারিকের বলে আউট হওয়ার আগে ২৯ বলে ৩১ রান করেন তিনি। শেষ দিকের কয়েকটি ওভারই সামাল দিতে পেরেছেন পাক বোলাররা।
শুরুতে পাকিস্তানের সেরা বোলার শাহীন শাহ আফ্রিদি এক ওভারে ১৫ রান দেয়ার পর আর দৃশ্যপটে আসেননি। একেবারে শেষ ওভারে এসে দিলেন ১৬ রান। অবশ্য শেষ ওভারে একটি উইকেট পেয়েছেন তিনি। পাকিস্তানের পক্ষে চার ওভারে ২৫ রান দিয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন সাইম আইয়ুব। সালমান দুই ওভারে ১০ রানে একটি, ওসমান তারিক চার ওভারে ২৪ রান খরচায় এক উইকেট নেন।



