বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬

মেসির রেকর্ডগড়া ম্যাচ জয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে আর্জেন্টিনা

Printed Edition
অস্ট্রিয়ার জালে বল পাঠিয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ড নিজের করে নেয়ার পর এভাবেই উদযাপন মেসির  : ইন্টারনেট
অস্ট্রিয়ার জালে বল পাঠিয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ড নিজের করে নেয়ার পর এভাবেই উদযাপন মেসির : ইন্টারনেট

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিশ্বকাপ ফুটবলে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ড লিওনেল মেসির। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচের শুরুতেই পেনান্টি মিস করলেও বেশিক্ষণ সময় নেননি রেকর্ড নিজের করে নিতে আর্জেন্টাইন ক্ষুদে জাদুকর। ৩৮ মিনিটেই জালের দেখান পান তিনি। আর তাতেই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও গড়লেন বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা। এবারের আসরে ‘জে’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার জালে তিনবার বল পাঠিয়ে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার সমান ১৬ গোল হয়েছিল আর্জেন্টিনার অধিনায়কের। এবার এককভাবে শীর্ষে বসলেন ইন্টার মিয়ামির অধিনায়ক। পরে করলেন আরো একটি গোল। সব মিলে রেকর্ড নিজের করে নেয়া ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা নিশ্চিত করল বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে গতকাল অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে শুরু ঠিমেতালে হয়েছিল আর্জেন্টিনার। আকাশি-সাদা ও লাল জার্সিতে কানায় কানায় পরিপূর্ণ ৮০ হাজার আসন। শুরুটা খুব ভালো করতে পারেনি তারা। সময় গড়ানোর সাথে সাথে খোলস ছেড়ে বের হতে শুরু করে আলবিসেলেস্তেদের আক্রমণভাগ। ম্যাচের ৩ মিনিটে বক্সের ভেতর ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন আর্জেন্টিনা স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজ। অস্ট্রিয়ার দুই ডিফেন্ডারের চাপে বল রাখতে পারেননি। ৯ মিনিটে ফাউলের শিকার হন ইন্টার মিলান ফরোয়ার্ড। বক্সের ভেতর অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার স্তেফান পশ ফাউল করলেও রেফারির চোখ এগিয়ে যায়। পরে ভিএআরের রায়ে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। শট নিতে আসেন মেসি। কিন্তু অবিশ্বাস্য! তার নেয়া স্পট কিকটি সরাসরি চলে যায় ডান দিকের পোস্টের বাইরে দিয়ে।

এবারের বিশ্বকাপে এটাই প্রথম পেনাল্টি মিস। আর তাতে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিসের রেকর্ডে বসে গেলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক! বিশ্বকাপে এতদিন দু’টি পেনাল্টি মিস করে ঘানার আসামোয়া জিয়ানের সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ছিলেন মেসি। সব মিলে ক্যারিয়ারে এটি ৩৩তম পেনাল্টি মিস মেসির।

পেনাল্টি মিস করলে কি হবে, মেসি তো অসাধারণ। আর্জেন্টিনার আক্রমণের মূল কারিগর তিনি। এর মধ্যেই দলীয় আক্রমণের ম্যাজিক! ম্যাচের ৩৮ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে মেদিনার ক্রস ডামি করেন আলমাদা। আসলে কেউ বুঝতে পারেননি গোলে শটটি নেবেন মেসি! তার বাঁ পায়ের নেয়া শটে কিছুই করার ছিল না অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাজারের। বল সরাসরি আশ্রয় নেয় প্রতিপক্ষের জালে। আর তাতেই সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিজের করে নিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। সেই সাথে আরো একটি রেকর্ডে জায়গা পেয়েছেন তিনি। ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের জাস্ট ফনতেইন এবং ১৯৭০ সালে ব্রাজিলের জাইরজিনহোর পর বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা ছয়টি ম্যাচে গোল করা তৃতীয় খেলোয়াড় হলেন মেসি। প্রথমার্ধ শেষ হয় ওই এক গোলে এগিয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধে অস্ট্রিয়ার রক্ষণে আক্রমণে ঝড় তুলে আর্জেন্টিনা। কিন্তু কোনোভাবেই জালের ঠিকানা খুঁজে পাচ্ছিল না। এর মধ্যে পাঁচ বদলি করেন আর্জেন্টাইন কোচ স্কালোনি। সবশেষ রদ্রিগো ডি পল ও ফাকোন্দা মেদিনাকে উঠিয়ে মাঠে প্রবেশ করান নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে। তাতেও কাজ হচ্ছিল না। কারণ আর্জেন্টিনার খেলার মাঝে প্রবেশ করেছিল অস্ট্রিয়া। উইং ধরে খেলে অভ্যস্ত না ল্যাটিন আমেরিকার দেশটি। কিন্তু অস্ট্রিয়া তাদের এভাবে খেলতে বাধ্য করছে। স্কালোনির দল সাধারণ মাঠের মাঝ দিয়ে আক্রমণে উঠতে অভ্যস্ত। মাঝপথের সেই খেলাটা আর্জেন্টিনাকে সেভাবে খেলতে দিচ্ছে না অস্ট্রিয়া। আর্জেন্টিনার প্রথম গোলটি এসেছে উইং প্লে থেকেই।

শেষ পর্যন্ত এভাবেই আটকাতে পারেনি আর্জেন্টিনাকে। ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে দ্বিতীয় গোল পেয়ে গেলেন মেসি। অস্ট্রিয়া বক্সের ভেতরে ছোটখাটো ঝড় বইয়ে শেষ পর্যন্ত মেসির মুখেই ফুটল শেষ হাসি। প্রথমে আলভারেজের শট অস্ট্রিয়া ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরলে ফিরতি বল পেয়ে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে মেসি শট নিলে তা ঠেকান আরেক ডিফেন্ডার। আবার ফিরতি বলে মেসির শট এবং গোল!