বিভ্রান্তির হাতিয়ার সোশ্যাল মিডিয়া

মির্জা গালিবের নামে নারীবিদ্বেষী উক্তি ভুয়া

আবুল কালাম
Printed Edition

যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্জা গালিবের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে, তিনি বলেছেন, ‘কর্মজীবী নারীদের পতিতা বলার পরে জামায়াতের ভোট বেড়েছে। কারণ দেশের অধিকাংশ নারী ইসলামকে ভালোবাসে, তারা পুরুষের সমান অধিকার দাবি করে আরবান প্রগ্রেসিভদের মতো লাফায় না।’

‘দ্য ডিসেন্ট’ তাদের তথ্য অনুসন্ধানে জানায়, জামায়াতকে ভোট না দেয়ার আহ্বান জানাতে ফটোকার্ডটি যুক্ত করে ফ্রান্স প্রবাসী চলচ্চিত্র পরিচালক স্বপন আহমেদকে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ৮টা ১০ মিনিটে তার ব্যক্তিগত আইডি থেকে একটি পোস্ট দিতে দেখা যায়। এ ছাড়া ৪ ফেব্রুয়ারি ১টা ১৬ মিনিটে ‘সাপোর্টার অব বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ নামক একটি গ্রুপেও তিনি কার্ডটি পোস্ট করেন।

অবশ্য ৫ তারিখ তিনি তার ব্যক্তিগত আইডির পোস্ট থেকে মির্জা গালিবের বক্তব্যসংবলিত ফটোকার্ডটি সরিয়ে জামায়াতের আমির ডা: শফিকুর রহমানের বক্তব্যসংবলিত আরেকটি ফটোকার্ড যুক্ত করেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মির্জা গালিব এমন কোনো মন্তব্য করেননি। মির্জা গালিব তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নিজেই এই বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন।

৫ ফেব্রুয়ারি বেলা ১টা ৪ মিনিটের দিকে পোস্ট করা ওই ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘এই ফটোকার্ডটা যে ভদ্রলোক পোস্ট করছেন, উনার প্রোফাইলে লেখা আছে যে, উনি ফিল্ম মেকার, ডিরেক্টর এবং প্রডিউসার। এই রকম মিথ্যা কথা আর প্রোপাগান্ডা প্রডিউস করাই যে উনার কাজ, এইটা বুঝতে আমার অনেক সময় লাগল। আশা করি কেউ একজন টকশোতে অতি শিগগিরই বলবেন এই ফটোকার্ডটা যেহেতু অনেক সময় ধরে ফেসবুকে ঘুরতেছে, সেহেতু এইটা আসল ফটোকার্ড, নইলে ঘুরতেছে কেন? এই প্রশ্নের স্যাটায়ারটা আবার বুঝতে ভুল কইরেন না। এই ফটোকার্ড এ যেইটা লিখা, সেইটা আমি বলিও নাই, লিখিও নাই। আমি যেইটা লিখছিলাম তার লিঙ্ক কমেন্টে দিলাম। হ্যাপি প্রোপাগান্ডা, মি. ফিল্ম মেকার, ডিরেক্টর এন্ড প্রডিউসার।’

এ ছাড়া স্বপন আহমেদের কাছে ফেসবুকের মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করে ফটোকার্ডটিতে থাকা উক্তির সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ‘দ্য ডিসেন্ট’কে জানান, তিনি যেহেতু ফটোকার্ডটির সত্যতা যাচাই করতে পারছেন না ফলে তিনি কার্ডটি ডিলিট করেছেন।

সুতরাং কর্মজীবী নারীদের পতিতা বলার পরে জামায়াতের ভোট বেড়েছে মির্জা গালিবের নামে ছড়ানো এই বক্তব্যটি অসত্য এবং ফটোকার্ডটি ভুয়া।