লা । ই । ফ । স্টা । ই । ল

শীতে ত্বককে ডিহাইড্রেশন থেকে রক্ষা

শুকনো ত্বকের জন্য প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো পানি। পানি আপনার কোষগুলোকে সক্রিয় ও কার্যক্ষম রাখে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করলে চামড়া যেমন শুকনো ও রুক্ষ হয় তেমনি ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দেয়। এজন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কমপক্ষে দুই-তিন লিটার পানি পান করা প্রয়োজন। তবে শারীরিক অসুস্থতা ও পরিশ্রম অনুযায়ী পানির চাহিদা কম-বেশি হতে পারে।

Printed Edition

লিনা আকতার

শীতের মৌসুমে শরীরের ত্বক আর্দ্রতার অভাবে বেশ শুকনো, ফাটলযুক্ত রুক্ষ, পুষ্টিহীন ও নিস্তেজ দেখায়। আর এই ত্বককে সতেজ, নির্মল ও ময়েশ্চারাইজ করে তুলতে কিছু খাবারের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। জেনে নেই কোন খাবারগুলো খেলে ত্বক ভালো থাকবে এই শীতে।

পানি : শুকনো ত্বকের জন্য প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো পানি। পানি আপনার কোষগুলোকে সক্রিয় ও কার্যক্ষম রাখে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করলে চামড়া যেমন শুকনো ও রুক্ষ হয় তেমনি ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দেয়। এজন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কমপক্ষে দুই-তিন লিটার পানি পান করা প্রয়োজন। তবে শারীরিক অসুস্থতা ও পরিশ্রম অনুযায়ী পানির চাহিদা কম-বেশি হতে পারে।

কিভাবে খাবেন : শুধু পানি খেতে ভালো না লাগলে ডিটক্স ওয়াটার করে খেতে পারেন। আকর্ষণ করার জন্য পানিতে কাটা ফল, মসলা, তুলসী পাতা, থাইপাতা দিয়ে খেতে পারেন।

শসা : শুকনো ত্বকের জন্য শসা একটি ভালো উৎস। একটি শসার মধ্যে ২৮৭ গ্রাম পানি থাকে। এ ছাড়া আছে পর্যাপ্ত ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ফলেট, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম পটাশিয়াম, দস্তা, সেলেনিয়াম, ফসফরাস, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ফাইবার আছে যা ত্বককে হাইড্রেট রাখার পাশাপাশি মাসেল, টেন্ডন এবং হাড়কেও ভালো রাখে।

কিভাবে খাবেন : শসার সালাদ, শসার স্যান্ডউইচ, ডিটক্স পানি, শসার রস ও স্যুপ করে খেতে পারেন।

কলা : কলাতে থাকা ফাইবার আপনার ত্বকের কোষগুলোকে চাঙ্গা করে। এ ছাড়া কলা নিয়মিত গ্রহণে ত্বক গ্লো ও মসৃণতা দিতে পারে।

কিভাবে খাবেন : প্রতিদিন কমপক্ষে একটি কলা খাবেন দু’টির বেশি নয়। খাবারে বৈচিত্র্য আনার জন্য খেতে পারেন কলার স্মুদি, কলার প্যানকেক ইত্যাদি। তবে যাদের কিডনি সমস্যা, ডায়াবেটিস সমস্যা আছে খাওয়ার আগে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেবেন।

সবুজ পাতাযুক্ত সবজি : পালংশাক, ব্রকলি, বাঁধাকপি, শালগমের মতো সবজিগুলোতে পর্যাপ্ত ভিটামিন এ, বি, সি, পটাশিয়াম, আয়রন, ফলিক এসিড, ফাইবার, দস্তা রয়েছে। এ ছাড়া এগুলোতে প্রাকৃতিকভাবে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি রয়েছে যা ত্বককে শুকনো ও চুলকানি হতে রক্ষা করে।

কিভাবে খাবেন : তরকারি, স্মুদি, স্যুপ, সালাদ, স্যান্ডউইচ করে খেতে পারেন।

ডিম : শুকনো ত্বকের জন্য ডিমের কুসুম বেশি উপকারী। এটিতে ফ্যাট দ্রবণীয় ভিটামিন রয়েছে যা ত্বকের কোষগুলোর ঝিল্লি অখণ্ডতা উন্নত করতে সহায়তা করে।

কিভাবে খাবেন : নাশতায় ডিম সেদ্ধ বা পোচ, দুপুরে সালাদে দিয়ে খেতে পারেন। এ ছাড়া সবজির মধ্যে মিক্সড করে ও স্যুপ করে যেভাবে ভালো লাগে। তবে সারাদিনে একটি ডিম খাওয়া নিরাপদ।

বাদাম : বিভিন্ন প্রকারের বাদাম যেমন কাজুবাদাম, আখরোট, চিনাবাদাম, পেস্তাবাদাম খেতে পারেন। এসব বাদামে রয়েছে ওমেগা-থ্রি ওমেগা-সিক্স ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ই। এ ছাড়া ম্যাগনেসিয়াম, জিংক, ক্যালসিয়াম, সেলেনিয়াম, ফাইবার ইত্যাদি। এসব ত্বককে হাইড্রেট, নরম, কোমল ও উজ্জ্বল রাখে। পাশাপাশি বাদামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের ফ্রি-র‌্যাডিকল থেকে রক্ষা করে।

কিভাবে খাবেন : বাদাম বিভিন্ন উপায়ে খেতে পারেন। সালাদে, স্মুদিতে, দুধে মিশিয়ে খেতে পারেন। যারা গর্ভবতী, ওজন কমাতে চান প্রসূতি মা ও বাড়ন্ত শিশু খেতে পারেন অনায়াসে।

গাজর : গাজরে পাওয়া ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদনের পূর্বসূরি। এ ছাড়া গাজরের ভিটামিন এ ত্বকের মরা কোষকে বিকশিত করে ত্বক সুস্থ রাখে। গাজরের হালুয়া, স্যুপ ও তরকারি করে খেতে পারেন। ভালো ফলাফলের জন্য রস করে খেতে হবে।

টমেটো : টমেটোতে উচ্চ মাত্রায় লাইকোপেন থাকে। এ ছাড়া টমেটোতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিএজিংবৈশিষ্ট যুক্ত থাকায় ত্বককে সতেজ ও ডিহাইড্রেট রাখে। তরকারি, স্যুপ, চাটনি ও সস করে খেতে পারেন।

জলপাই তেল : জলপাই তেলে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি যা ত্বককে ড্যামেজ হওয়া থেকে রক্ষা করে ও ত্বককে হাইড্রেট রাখে। এটি সালাদে ও রান্নায় ব্যবহার করতে পারেন।

মাছ : মাছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকে যা ত্বকের প্রদাহ কমাতে, আর্দ্রতা আটকে রাখতে, ত্বককে ঝলমলে ও নরম রাখতে মাছ পুষ্টির একটির ভালো উৎস। ছোট মাছের পাশাপাশি সামুদ্রিক মাছ সপ্তাহে দুই দিন খেতে পারেন।

ডালিম : ডালিমের বীজে রয়েছে অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বকের জ্বালা প্রদাহ, চুলকানি হ্রাস করতে সহায়তা করে। এ ছাড়া ডালিমের রসে ভিটামিন এ, সি এবং খনিজসমৃদ্ধ থাকায় ত্বকের ফাটল নিরাময়ে সহায়তা করে।

মধু : মধু প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপ্টিক যা ত্বকের রুক্ষভাব দূর করে ও ত্বককে করে মসৃণ ও উজ্জ্বল। তবে মধু অবশ্যই এক-দুই চা চামচের বেশি খাবেন না। যাদের ডায়াবেটিস ও ওজন বেশি তারা অবশ্যই পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খাবেন লেবু, মধু, আদা দিয়ে চা খেতে পারেন।

তিসি : এক চা চামচ তিসি বীজ আপনার ত্বকের রুক্ষতা, কোমলতা ও হাইড্রেশন থেকে মুক্তি দিবে।

কিভাবে খাবেন : তিসি বীজ সালাদে ছিটিয়ে, জুস, স্মুদিতে দিয়ে খেতে পারেন। তবে যাদের প্রেসার আছে, হৃদরোগের সমস্যা তারা অবশ্যই পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেবেন।

মিষ্টি আলু : মিষ্টি আলুতে পাওয়া অ্যান্টোসায়ানিন প্রকৃতির প্রদাহ বিরোধী যা ত্বককে করে প্রশমিত এবং ত্বককে টক্সিন থেকে মুক্তি পেতে সক্ষম। এটি গ্রিল, বেকড ও তরকারি করে খেতে পারেন।

নারিকেল তেল : নারিকেল তেলে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরির বৈশিষ্ট যা ত্বককে করে ময়েশ্চারাইজ, নরম ও চকচকে। আপনারা জলপাই তেলের পরিবর্তে নারিকেল তেল সালাদে দিতে পারেন। অবশ্যই ঘরে বানানো নারিকেল তেল ব্যবহার করা উচিত।

টিপস

১. তৈলাক্ত ভাজা খাবার ত্বকের জন্য ভালো নয়। তাই যতটা পারেন কম খাবেন। ২. ত্বক ভালো পেতে খাবারে চিনি, মিষ্টিজাতীয় খাবার ও ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবারগুলো এড়িয়ে চলুন। ৩. নিজেকে ডিহাইড্রেট রাখুন। ৪. পর্যাপ্ত ঘুমান (প্রতিদিন সাত-আট ঘণ্টা)। ৫. বাইরের প্রসাধনীগুলো না কিনে ঘরে বানিয়ে মাস্ক তৈরি করে মুখে লাগান । ৬. বাইরে বের হওয়ার সময় সানস্ক্রিন প্রয়োগ করুন । ৭. মানসিক চাপ কমান ।

লেখক : পুষ্টিবিদ, রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার বিরামপুর, দিনাজপুর