পশুর হাটে নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা, জাল নোট শনাক্তে মেশিন : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে কোরবানির পশু কেনাবেচায় ব্যবসায়ী, খামারি ও ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, জাল নোট শনাক্তে হাটে বিশেষ মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং সেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে বিক্রেতারা নিরাপদে অর্থ জমা দিতে পারেন এবং প্রয়োজনে নতুন হিসাব খুলেও অর্থ সংরক্ষণ করতে পারেন।

গতকাল রাজধানীর দিয়াবাড়ী পশুর হাটে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে এবং এ বছর দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে।

পশু হারিয়ে যাওয়া বা চুরির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বড় হাটগুলোতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক দল সার্বক্ষণিক কাজ করছে। হারিয়ে যাওয়া পশু উদ্ধারে মাইকিং, তদারকি এবং তাৎক্ষণিক সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই হারানো পশু দ্রুত উদ্ধার করে মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ভারতীয় বা সীমান্তপথে আসা গবাদিপশুর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার সীমান্তে অবৈধ পশু প্রবেশ রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোরবানির আগেই আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সীমান্তরক্ষী বাহিনী, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

কোরবানির পশুর মূল্য নিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশে এখনো মূলত পশুর গঠন, স্বাস্থ্য, আকৃতি ও বাহ্যিক মান বিবেচনায় দরদামের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় হয়। ফলে একই ধরনের পশুর দাম ভিন্ন হতে পারে। ভবিষ্যতে ধীরে ধীরে ওজনভিত্তিক বা ‘লাইভ ওয়েট’ পদ্ধতিতে পশু বিক্রির সংস্কৃতি গড়ে উঠলে মূল্য নির্ধারণ আরো স্বচ্ছ ও নির্ধারিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, বাজারে হাজারো বিক্রেতা ও ক্রেতার উপস্থিতির কারণে কোনো ধরনের কৃত্রিম সিন্ডিকেট তৈরি করা কঠিন। বাজারের প্রতিযোগিতা ও চাহিদা-সরবরাহের ভিত্তিতেই পশুর দাম নির্ধারিত হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: শাহজামান খান, অধিদফতরের পরিচালক ডা: মো: বয়জার রহমান, প্রকল্প পরিচালক ডা: মো: আবদুর রহিম, ডা: মো: সফিকুর রহমানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।