রাজাপুরের বাগড়ির খাল মৃতপ্রায় কৃষি ও জনজীবন বিপর্যয়

Printed Edition
পলি মাটিতে ভরে গেছে রাজাপুরের বাগড়ি খাল : নয়া দিগন্ত
পলি মাটিতে ভরে গেছে রাজাপুরের বাগড়ি খাল : নয়া দিগন্ত

এনামুল হক রাজাপুর (ঝালকাঠি)

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বাগড়ি বাজার জামে মসজিদ থেকে ফকিরবাড়ী পর্যন্ত এলাকার একমাত্র ও ঐতিহ্যবাহী খালটি দীর্ঘ দিনের অবহেলা ও দখল-দূষণে কার্যত মৃত্যুপথযাত্রী হয়ে পড়েছে। একসময় যে খালটি ছিল এলাকার কৃষি, যোগাযোগ ও পরিবেশের প্রধান অবলম্বন, সেটিই এখন অস্তিত্ব সঙ্কটে। খালটি দ্রুত পুনঃখনন ও সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকরা।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, যুগ যুগ ধরে খরস্রোতা এই খালটিতে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। যে কারণে কয়েক হাজার পরিবার ও কয়েক শ’ কৃষক চরম সঙ্কটে পড়েছেন। একসময় এই খালের পানি ব্যবহার করে বিস্তীর্ণ এলাকার জমিতে সেচ দেয়া হতো। বর্তমানে পানির অভাবে বোরো ও আমন মৌসুমে চাষাবাদ প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

কৃষক সেলিম, কামাল ও মহারাজ জানান, খালটিই ছিল তাদের চাষাবাদের একমাত্র ভরসা। এখন পানি না থাকায় অনেক জমি অনাবাদি পড়ে আছে। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় ঋণের বোঝা বাড়ছে এবং সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, রাজাপুর উপজেলার ৪৮ নম্বর পশ্চিম চর বাঘরী ও ৪৯ নম্বর বাঘরী মৌজার অন্তর্ভুক্ত ‘বাহার নাগ খাল’ পলি মাটিতে প্রায় সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে আছে। খালের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে পানি চলাচলে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসচেতন বাসিন্দা নিয়মিত গৃহস্থালি বর্জ্য ও পচা জীবজন্তু খালে ফেলছেন। এতে পানির রঙ কালো হয়ে গেছে এবং এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে রোগবালাই বাড়ার পাশাপাশি পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সাবেক শিক্ষক খাইরুল আলম ও বশির মৃধা বলেন, দীর্ঘ দিন ধরেই এই দুর্ভোগ চললেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।

সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে ভূমি অফিস থেকে খালটি সরেজমিন তদন্ত করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, খালটি প্রায় সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে গেছে এবং জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি রক্ষায় দ্রুত খনন ও পরিষ্কার করা জরুরি।

সচেতন মহলের মতে, বর্ষা মৌসুমে খালটি কার্যকর না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে সরকারি উদ্যোগে খালটি পুনঃখনন ও পরিষ্কার করা হোক। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ভারসাম্য ফিরে আসবে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন বাগড়িবাসী।