ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের দ্রুত উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সাংবাদিকের চোখে জুলাই’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এনসিপি-সংশ্লিষ্ট সংগঠন ডেমোক্র্যাটিক জার্নালিস্ট অ্যালায়েন্স এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের সুরক্ষাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও ভালো সুপারিশ রয়েছে। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন না। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সাংবাদিকেরা সাহসিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইলেকট্রনিক মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়া হলেও সাংবাদিকেরা বিভিন্ন উপায়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশের চেষ্টা করেছেন। এ সময় মফস্সলের সাংবাদিক, মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক ও নাগরিক সাংবাদিকদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের হতাশার কথা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ওই সময়ে অনেক কিছু করার সুযোগ থাকলেও সবকিছু করা সম্ভব হয়নি। তার ভাষ্য, তিনি সাত মাস দায়িত্বে ছিলেন এবং ওই সময়টি স্বাভাবিক ছিল না। দেশের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের বড় অংশের শক্তি ও সামর্থ্য ব্যয় করতে হয়েছে। তবে তার মতে, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ কমিশনগুলোর সুপারিশ বাস্তবায়নের সুযোগ তখন ছিল।
তিনি বলেন, ‘অনেক কিছু করা সম্ভব ছিল, কিন্তু অনেক কিছু আমাদের করতে দেয়া হয়নি। আপনাদের সব সমালোচনা আমি সাদরে গ্রহণ করি। তারপরও বলব, ওই সময়ে আমাদের কিছু কাজ করার সুযোগ ছিল। বিশেষ করে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের সুযোগ ছিল।’
গণমাধ্যমের ওপর রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রভাব নিয়েও কথা বলেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, মালিকপক্ষ, সম্পাদক ও সাংবাদিকদের স্বার্থের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের প্রভাবও গণমাধ্যমে কাজ করে। এসব প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ দিতে হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা একটা রেসপন্সিবল জার্নালিজম চাই। একই সাথে রেসপন্সিবল পলিটিক্স চাই।’ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন সহিংসতারও সমালোচনা করেন তিনি। কোনো গণমাধ্যমের নীতি বা রাজনৈতিক অবস্থানের সাথে মতভিন্নতা থাকলেও সহিংসতার মাধ্যমে তা মোকাবেলা করা সমর্থনযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, ব্যক্তির ইচ্ছার ওপর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান যত বেশি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী হবে, দেশের গণতন্ত্রও তত বেশি শক্তিশালী হবে।
অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গণহত্যার বিচার, স্বাধীন ও সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আর পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়া যাবে না; সবাইকে একসাথে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করা সাংবাদিকেরা ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও পরবর্তী সময়ের নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ সময় এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) সারজিস আলম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল আমীনসহ দলটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



