ডিমলাবাসী ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত

Printed Edition

মো: রেজোয়ান ইসলাম ডিমলা (নীলফামারী)

তীব্র তাপদাহ ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনের বেলায় তপ্ত রোদে বাইরে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে, আর রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমহীন সময় কাটাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। এতে শ্রমজীবী মানুষের আয় কমেছে, ব্যবসাবাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে এবং হাসপাতালে রোগীর চাপও বাড়ছে। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ডিমলাসহ আশপাশের এলাকায় কয়েক দিন ধরে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা ৩১ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। ভাপসা গরমে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও দিনমজুররা। প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় কাজ করতে না পারায় তাদের দৈনিক আয় কমে গেছে। কিছুটা স্বস্তির খোঁজে শরবত ও আখের রসের দোকানগুলোতে ভিড় করছেন অনেকেই।

এ দিকে লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরো অসহনীয় করে তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনে-রাতে মিলিয়ে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও একই অবস্থা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে পরিবারগুলো চরম ভোগান্তিতে রয়েছে।

শুটিবাড়ী বাজারের ব্যবসায়ী অহিদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ক্রেতা কমে গেছে। জেনারেটর চালাতে গেলেও জ্বালানি সংগ্রহে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। অসহনীয় গরমে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়া, জ্বর ও পানিশূন্যতায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৪৫০ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৪০ থেকে ১৫০ জনের মধ্যে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিমলা সাব-জোনাল অফিসের এজিএম (ওঅ্যান্ডএম) মো: মাসুদ আলম বলেন, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের বরাদ্দ কম থাকায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।