রংপুরের ছয়টি আসনে চূড়ান্ত লড়াইয়ে মাঠে ৪৪ প্রার্থী

জামায়াতের ৫ জন ১টিতে এনসিপি

সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর ব্যুরো
Printed Edition

রংপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষে প্রার্থীর সংখ্যা চূড়ান্ত হয়েছে। শেষ দিনে চারটি আসন থেকে সাত প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় এখন ছয় আসনে মোট ৪৪ জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে থাকছেন। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আখতার হোসেন উল্লেখযোগ্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।

গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রংপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সবকটি আসনেই বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী রয়েছেন। জামায়াত পাঁচটি আসনে প্রার্থী দিলেও একটি আসন ছেড়ে দিয়েছে এনসিপিকে।

রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতর সূত্রে জানা যায়, রংপুর-১ আসন থেকে এনসিপির মো: আল মামুন, গণ-অধিকার পরিষদের হানিফুর রহমান খান সজিব এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মমিনুর রহমান মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। রংপুর-৩ আসনে খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মণ্ডল ও নুর আলম সিদ্দিক, রংপুর-৫ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আনোয়ার হোসাইন ও বাসদের মমিনুল ইসলাম এবং রংপুর-৬ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো: মাহবুবুর রহমান মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। রংপুর-২ ও রংপুর-৪ আসনে কোনো প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ছয় আসনে মোট ৬১টি মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ৫৬ জন মনোনয়ন দাখিল করেন। যাচাই-বাছাইয়ে ৪৪ জনের মনোনয়ন বৈধ ও ১২ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়। পরবর্তীতে আপিলে সাতজন প্রার্থিতা ফিরে পান। ফলে মোট বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৫১ জন। শেষ দিনে সাতজন সরে দাঁড়ানোয় এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন ৪৪ জন। এর মধ্যে রংপুর-১ আসনে ৬ জন, রংপুর-২ আসনে ৫ জন, রংপুর-৩ ও ৪ আসনে ৮ জন করে, রংপুর-৫ আসনে ৯ জন এবং রংপুর-৬ আসনে ৮ জন প্রার্থী রয়েছেন।

আসনভিত্তিক প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, রংপুর-১ আসনে বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন, জামায়াতের রায়হান সিরাজী, জাতীয় পার্টির মঞ্জুম আলী, ইসলামী আন্দোলনের এ টি এম গোলাম মোস্তফা, সমাজতান্ত্রিক দলের আহসানুল আরেফিন ও ইসলামী ফ্রন্টের মো: আনাস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

রংপুর-২ আসনে রয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, বিএনপির সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকার, জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি আনিছুল ইসলাম মণ্ডল, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা আশরাফ আলী এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের আজিজুর রহমান।

রংপুর-৩ আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের, বিএনপির সামসুজ্জামান সামু, জামায়াতের মাহবুবুর রহমান বেলাল, ইসলামী আন্দোলনের আমিরুজ্জামান পিয়াল, বাসদের আব্দুল কুদ্দুস এবং ট্রান্সজেন্ডার প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী বৈধ প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।

রংপুর-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এনসিপির আখতার হোসেন, বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা, জাতীয় পার্টির আবু নাসের শাহ মো: মাহবুবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের জাহিদ হোসেন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রগতি বর্মন তমা, বাংলাদেশ কংগ্রেসের উজ্জ্বল চন্দ্র রায় এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আবু সাহমার।

রংপুর-৫ আসনে জামায়াতের অধ্যাপক গোলাম রব্বানী, বিএনপির গোলাম রব্বানী, জাতীয় পার্টির এস এম ফখর উজ-জামান জাহাঙ্গীর, ইসলামী আন্দোলনের গোলজার হোসেন, সিপিবির আবু হেলাল এ রনি, নাগরিক ঐক্যের মোফাখখারুল ইসলাম এবং বাসদের (মার্কসবাদী) বাবুল আক্তার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন।

এ ছাড়া রংপুর-৬ আসনে বিএনপির সাইফুল ইসলাম, জামায়াতের নুরুল আমিন, জাতীয় পার্টির নূর আলম মিয়া, এবি পার্টির সাদিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের সুলতান মাহমুদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।