সয়াবিন তেলের সঙ্কট তীব্র মুরগি ও সবজির দাম চড়া

ডিলাররা সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন। প্রায় এক মাস ধরে এ পরিস্থিতি চললেও গত কয়েক দিন ধরে অনেক কোম্পানি অর্ডার নেয়াও বন্ধ করে দিয়েছে। কোথাও কোথাও তেল নিতে হলে অন্য পণ্য কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition

রাজধানীর বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সঙ্কট আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। একই সাথে সোনালি মুরগি ও বেশির ভাগ সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপণ্যের বাজারে চাপে পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ।

গতকাল ঢাকার বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল কিছু দোকানে পাওয়া গেলেও সরবরাহ খুবই সীমিত। আধা লিটার, এক লিটার ও দুই লিটারের বোতল বেশির ভাগ দোকানেই নেই। খোলা সয়াবিন তেল পাওয়া গেলেও তা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে লিটারপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

বর্তমানে সরকার নির্ধারিত এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের নির্ধারিত দাম ১৭৬ টাকা এবং পাম তেলের দাম ১৬৪ টাকা। কিন্তু বাস্তবে খোলা সয়াবিন ২০০ থেকে ২১০ টাকা এবং পাম তেল ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বিক্রেতারা অভিযোগ করেন বলছেন, ডিলাররা সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন। প্রায় এক মাস ধরে এ পরিস্থিতি চললেও গত কয়েক দিন ধরে অনেক কোম্পানি অর্ডার নেয়াও বন্ধ করে দিয়েছে। কোথাও কোথাও তেল নিতে হলে অন্য পণ্য কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মিরপুর রুপনগর, বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, তেলের সঙ্কটের কারণে ক্রেতারা অন্যান্য পণ্যও কম কিনছেন, ফলে বিক্রি কমে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে বেশি দামে পাইকারি বাজার থেকে তেল এনে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে, ঈদের পর থেকে সোনালি মুরগির দাম রেকর্ড উচ্চতায় রয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৪০০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক দিন আগে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। অর্থাৎ গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে।

সোনালি মুরগির দাম বাড়ার কারণ হিসেবে খামারিরা বলছেন, বার্ড ফ্লুসহ বিভিন্ন রোগে মুরগির মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে। দাম বেড়ে যাওয়ায় সোনালি মুরগির চাহিদাও কমে গেছে। তবে, ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমে বর্তমানে ১৮৫ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ঈদের সময় ২২০ টাকায় উঠেছিল।

ডিমের বাজারেও অস্থিরতা দেখা গেছে। ফার্মের ডিম ডজনপ্রতি ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১১০ টাকার মধ্যে। কিছু খুচরা দোকানে ডিম ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এ দিকে সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে সবজির সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। বেশির ভাগ সবজি এখন ৮০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। আলু তুলনামূলক কম দামে ২৫ টাকা কেজি থাকলেও পেঁপে ও গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে পটোল ও ঢ্যাঁড়স ৬০ থেকে ৮০ টাকা, সিম ও সজিনা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, বরবটি ও করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম কিছুটা স্বস্তিদায়ক রয়েছে। কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং পেঁয়াজ প্রকার ভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকায় ভোক্তাদের স্বস্তি ফিরতে সময় লাগবে। ঈদুল আজহার আগে বাজার স্বাভাবিক নাও হতে পারে।