বাজিতপুরে শতবর্ষী খাল ভরাট জলাবদ্ধতায় ফসলের ক্ষতি

আলি জামশেদ, নিকলী (কিশোরগঞ্জ)
Printed Edition
বাজিতপুরে শতবর্ষী খাল ভরাট জলাবদ্ধতায় ফসলের ক্ষতি
বাজিতপুরে শতবর্ষী খাল ভরাট জলাবদ্ধতায় ফসলের ক্ষতি

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার হিলচিয়া ইউনিয়নের মইতপুর মৌজায় শতবর্ষী একটি সরকারি খাল প্রভাবশালীদের দখল করে ভরাট করেছে। ফলে এলাকাজুড়ে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন স্থানীয় কৃষকেরা। খালটি পুনরুদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।

গত মঙ্গলবার সকালে মইতপুর এলাকার খালের পাড়ে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় কৃষক, বয়োবৃদ্ধ ও তরুণরা অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মইতপুর নামের এ খালটির বিভিন্ন অংশ দখল করে কোথাও মাছ চাষ করা হচ্ছে, কোথাও আবার বাঁধ দিয়ে পুকুর তৈরি করা হয়েছে। কিছু স্থানে স্থাপনাও নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ফসলিজমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, আর ভারী বর্ষণে ব্যাপক ফসলহানি ঘটে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, একসময় এই খাল দিয়ে নৌকা চলাচল করত। কৃষিপণ্য পরিবহনে এটি ছিল এলাকার প্রধান ভরসা। এখন খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় ধান, পাট, পেঁয়াজসহ নানা মৌসুমি ফসল চাষ করা যাচ্ছে না। ফলে বহু পরিবার জীবিকা সঙ্কটে পড়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এই খাল পুরো এলাকার কৃষির প্রাণ। খাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু ফসল নয়, মানুষের জীবন ও জীবিকাও হুমকির মুখে পড়েছে। তারা নিকলী থেকে বাজিতপুর সড়কের মইতপুর এলাকার সেতুর একপাশে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে পুকুর খনন ও চার পাশে বাঁধ দেয়ার অভিযোগও তোলেন।

এ সময় স্থানীয় প্রভাবশালী কাজী এমদাদুল হক কোহিনুরের বিরুদ্ধে খাল ভরাটের অভিযোগ করা হয়। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর সরকার পরিবর্তনের সুযোগে তিনি খালের একটি অংশ দখল করে পুকুরের সাথে যুক্ত করেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে হিলচিয়া ইউনিয়নের মইতপুর এলাকার কাজী এমদাদুল হক কোহিনুরের সাথে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সাবেক বিডিআর সদস্য ও সরাচরচর বাজারের ব্যবসায়ী নাহিদ বলেন, প্রায় তিন মাস আগে খাল দখলমুক্ত করতে বাজিতপুর ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছিল। তবে অজানা কারণে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সোহাগের সাথে মঙ্গলবার দুপুরে ও পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।