নয়া দিগন্ত ডেস্ক
ময়মনসিংহ ও বরিশালে গতকাল শনিবার পৃথক তিনটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড, বরিশালের একটি নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং একটি বহুতল ভবনে এসব অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও এসব ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ময়মনসিংহ অফিস জানিয়েছে, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের সাত তলায় অবস্থিত শিশু ওয়ার্ডে আগুন লাগে। মুহূর্তেই ধোঁয়ায় পুরো তলা আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত রোগীদের সরিয়ে নিচে নামিয়ে আনা হয়। খবর পেয়ে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
হাসপাতালের উপপরিচালক ডা: জাকিউল ইসলাম জানান, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বড় বিপদ এড়ানো গেছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার সানোয়ার হোসেন জানান, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এ দিকে বরিশাল ব্যুরো জানিয়েছে, বরিশালে একই দিনে দু’টি পৃথক অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের ‘র্যাগ ডে’র অনুষ্ঠান চলাকালে ক্যাম্পাসের জেনারেটর রুমে হঠাৎ আগুন লাগে। এতে উল্লসিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক অলক সরকার জানান, দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ায় বড় ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুনে একটি বৈদ্যুতিক প্যানেল বোর্ড পুড়ে গেছে।
এর আগে সকালে বরিশাল নগরীর পুলিশ লাইন রোডের বিএস টাওয়ারের সপ্তম তলায় একটি বিউটি পার্লারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এই ঘটনাতেও কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তিনটি ঘটনার ক্ষেত্রেই ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে।


