নয়া দিগন্ত ডেস্ক
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের। শিকাগো শহরের কাছে ইলিয়নিয়সের ভলো মিউজিয়ামের গ্যালারিতে থাকা একটি গাড়ির নামে ট্রাফিক পুলিশ জরিমানার টিকিট পাঠিয়েছে। অথচ গাড়িটি বছরের পর বছর প্রদর্শনী থেকে সরানোই হয়নি। সম্প্রতি ৫০ ডলারের ট্রাফিক টিকিটটি পাঠিয়েছে বিগ অ্যাপল থেকে (নিউ ইয়র্ক সিটি)।
গাড়িটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২২ এপ্রিল ব্রুকলিনে ২৫ মাইল/ঘণ্টা (৪০ কিমি/ঘণ্টা) গতির জোনে তাদের গাড়িটি ৩৬ মাইল/ঘণ্টা (৫৯ কিমি/ঘণ্টা) গতিতে চলছিল।
টিকিটটির সাথে ট্র্যাফিক ক্যামেরার ছবিও ছিল, যেখানে ক্যালিফোর্নিয়ার লাইসেন্স প্লেট ‘কঘওএঐঞ’ লাগানো একটি কালো ট্রান্স অ্যাম গাড়ি দেখা যায়। এই প্লেটটি শো-এর গাড়ি এবং জাদুঘরের অনিবন্ধিত গাড়িতে থাকা শৌখিন প্লেটটির মতো। শহরের রেকর্ড অনুযায়ী, এই লাইসেন্স প্লেটটি ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে নিউ ইয়র্ক সিটিতে আরো পাঁচটি অপরিশোধিত ট্র্যাফিক আইন লঙ্ঘনের সাথেও যুক্ত।
শহর কর্তৃপক্ষ কিভাবে প্লেটটিকে জাদুঘরের সাথে যুক্ত করল তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট ছিল না। বুধবার ইমেইল এবং ফোন বার্তার তাৎক্ষণিক কোনো উত্তর দেননি শহরের কর্মকর্তারা। জাদুঘরের মার্কেটিং ডিরেক্টর জিম ওজডিলা বলেন, ‘আমরা যে একটি সিনেমার প্রপের সাথে আইনগতভাবে যুক্ত, তা বেশ আকর্ষণীয়।’ ‘টিভি ও সিনেমার হলিউড গাড়িগুলোর জন্য আমরা পরিচিত; কিন্তু নিউ ইয়র্কের একটি টিকিট থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার প্লেট হয়ে ভলো মিউজিয়ামে কিভাবে আমাদের গাড়িটি নিবন্ধিত হলো, সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই। আমরা এখনো বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করছি।’
মিউজিয়ামটি টিকিটটিকে চ্যালেঞ্জ করে একটি শুনানির অনুরোধ করেছে।
‘বিষয়টা সত্যিই মজার,’ ওজডিলা বলেন। আমরা জানতে চাই এই ‘নাইট রাইডার’ লোকটি কে, কারণ একই গোত্রের মানুষের মধ্যে মিল হয়। আমরা শুধু জানতে চাই, এটি কি কোনো মিউজিয়ামের গাড়ি, নাকি এটি এমন কোনো ব্যক্তি যিনি শখের বশে গাড়িটি তৈরি করেছেন?
ডেভিড হ্যাসেলহফ অভিনীত অপরাধ দমনকারী ‘নাইট রাইডার’ সিরিজটি ১৯৮২ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত এনবিসিতে প্রচারিত হয়েছিল এবং এতে কওঞঞ নামের একটি কালো ট্রান্স অ্যাম গাড়ি দেখানো হতো, যেটিতে একটি ব্যঙ্গাত্মক কথা বলা কম্পিউটার ছিল। (কওঞঞ-এর পূর্ণ রুপ হলো কহরমযঃ ওহফঁংঃৎরবং ঞড়ি ঞযড়ঁংধহফ)। রোড অ্যান্ড ট্র্যাক ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী এই শো-এর জন্য প্রায় ২০টি কওঞঞ তৈরি করা হয়েছিল; কিন্তু আসল গাড়িগুলোর মধ্যে মাত্র পাঁচটি অবশিষ্ট আছে।
রাজ্যের আইন অনুযায়ী, নিউ ইয়র্ক সিটি সর্বোচ্চ ৭৫০টি স্পিড ডিটেক্টরযুক্ত ক্যামেরা পরিচালনা করার জন্য অনুমোদিত। যখন কোনো ক্যামেরা দ্রুতগতিতে চলা কোনো গাড়িকে শনাক্ত করে, তখন এটি গাড়িটি এবং তার লাইসেন্স প্লেটের ছবি রেকর্ড করে। শহরের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, শহরের ডিপার্টমেন্ট অফ ট্রান্সপোর্টেশনের কর্মীরা এই আইন লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করেন এবং যদি গাড়িগুলো নির্ধারিত গতিসীমার চেয়ে ঘণ্টায় ১০ মাইল (১৬ কিলোমিটার)-এর বেশি গতিতে চলে, তবে গাড়ির মালিকদের কাছে টিকিট পাঠিয়ে দেন।
ভলো মিউজিয়াম তাদের সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলোতে এই টিকিটের ঝামেলা নিয়ে মজা করছে। সম্প্রতি তারা তাদের ফেসবুক পেজের হেডার পরিবর্তন করে লিখেছে, ‘সেই নাইট রাইডার কিট-এর ঠিকানা, যা ইলিনয়সের প্রদর্শনী থেকে বের না হয়েই নিউ ইয়র্ক সিটিতে গতিসীমা লঙ্ঘনের জন্য টিকিট পেয়েছে!’



