নিজস্ব প্রতিবেদক
এখন থেকে হামে আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে নিয়ে এলে বিছানা নেই বলে অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া যাবে না। বিছানা না থাকলে অতিরিক্ত বিছানার ব্যবস্থা করতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতাল ও কিনিকসমূহের পরিচালক নির্দেশ দিয়েছেন। শুধুমাত্র উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে উপজেলা, জেলা, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতালের যে তালিকা রয়েছে সেভাবে রেফার করা যাবে।
এ দিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এর আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হাম সন্দেহে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে এক হাজার ২৯৫ শিশু হাম ও হাম সন্দেহে হাসপাতালে এসেছে চিকিৎসা নিতে। যে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এদের চার শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সোমবার সকাল পর্যন্ত দেশে ১৯৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু সরকার ৩৯ শিশুর মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে যে এরা নিশ্চিতভাবেই হামে মারা গেছে। সরকারিভাবে গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত ২৩৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে এবং হাম সন্দেহে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুসারে, ১৫ মার্চ থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ২৮ হাজার ৩৩৪, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা চার হাজার ৫৯। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১৮ হাজার ৮৪৫ রোগী, এদের ১৫ হাজার ৭২৮ জন ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরেছে।
ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামের প্রাদুর্ভাব থামছেই না। নতুন করে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬-তে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২৭ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৬৫ শিশু।
জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল ১০ মাস বয়সী এক শিশুকে হাম ও নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত প্রায় ১১টার দিকে শিশুটি মারা যায়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালের হাম মেডিক্যাল দলের ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা: মোহা: গোলাম মাওলা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে ২৩ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত মোট ৭৪৮ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৭ শিশু। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৬৬৭ শিশু।



