খুলনা ব্যুরো
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খানকে (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। শনিবার বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট শাখার অ্যাডিশনাল ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়।
কেএমপি সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার নগরীর লবণচরা থানার মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকায় একটি সুধী সমাবেশে স্থানীয় জনসাধারণ অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারকে জানান, গত দুই বছরে খুলনায় একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের হাতে ৮৯ জন খুন হয়েছে। গুলি ও কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে শতাধিক। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটছে লবণচরা থানা এলাকায়। মহিরবাড়ি খালপাড়ও অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। একের পর এক অপরাধ সংঘটিত হলেও আতঙ্কে স্থানীয় মানুষ থানায় কোনো অভিযোগ করেন না। আবার পুলিশ একাধিক অভিযান চালালেও কেউ ধরা পড়ে না।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, এই এলাকার ঘরে ঘরে অস্ত্র, সন্ত্রাসী। কার দুটো মাথা যে পুলিশকে তথ্য দেবে? আবার পুলিশের মধ্যে সন্ত্রাসীদের লোক রয়েছে। পুলিশকে তথ্য দেয়ার সাথে সাথে সন্ত্রাসীদের জানিয়ে দেয়, যার কারণে এই এলাকায় পুলিশ কয়েকটি অভিযান চালালেও কোনো সন্ত্রাসী ধরা পড়ে না।
সভায় পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করেন। তখন কয়েকজন বলে ওঠেন, তথ্য দিলে পুলিশই সেটা ফাঁস করে দেয়। আগে পুলিশ অফিসারদের ভালো হওয়ার পরামর্শ দেন সবাই।
এর পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রাশিদুল ইসলাম খান বলেন, দারোগা বা ইনস্পেক্টরকে বলার পর কোনো তথ্য যদি ফাঁস হয়, আমি মুসলমান হিসেবে কথা দিচ্ছি আমি ইনস্পেক্টরকে ঝুলিয়ে দেবো। আপনারা পিটেয়ে মারবেন। আপনারা গোপন তথ্য দিবেন, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানলে আমি কথা দিচ্ছি গাছের সাথে ঝুলিয়ে পিটাব।’
এ ঘটনার পর বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক যৌথ বিবৃতি দিয়ে বলেন, পুলিশ বাহিনীর সব সদস্য ও কর্মকর্তার বক্তব্যে সর্বদা পেশাদারিত্ব, সংযম ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা বাঞ্ছনীয়। জনসম্মুখে প্রদত্ত যেকোনো বক্তব্য এমন হওয়া উচিত, যা বাহিনীর মর্যাদা, শৃঙ্খলা ও জনগণের আস্থাকে আরো সুদৃঢ় করে। অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা আশা করেন, ভবিষ্যতে সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্য বক্তব্য প্রদানকালে আরো সতর্কতা, সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন, যাতে পুলিশ বাহিনীর মর্যাদা, ঐক্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদার ভাবমূর্তি আরো সুদৃঢ় হয়। বিবৃতিতে বাহিনীর সর্বস্তরের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, পেশাদারিত্ব ও ইতিবাচক কর্মপরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।



