৩৩ বছরেও চালু হয়নি রাজবাড়ীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল

Printed Edition

এম মনিরুজ্জামান রাজবাড়ী

যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন ও আধুনিক পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার ল্য নিয়ে তিন দশকেরও আগে নির্মিত হয়েছিল রাজবাড়ী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। কিন্তু নির্মাণের এতো বছর পরও সেটি পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ দিন অব্যবহৃত থাকায় প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত টার্মিনালের অবকাঠামো এখন জরাজীর্ণ। ভবনটি বাসের গ্যারেজ, যানবাহন মেরামতের স্থান এবং মাদকসেবীদের আড্ডাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

জেলা পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯২-৯৩ অর্থবছরে রাজবাড়ী শহরের শ্রীপুর এলাকায় চার একর ১৪ শতাংশ জমির ওপর এক কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে টার্মিনালটি নির্মাণ করা হয়। জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই প্রকল্পের ব্যয় চুক্তি অনুযায়ী ধাপে ধাপে পৌরসভার পরিশোধ করার কথা ছিল। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৩ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ফলে জেলা পরিষদের কাছে পৌরসভার বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় এক কোটি ৬১ লাখ টাকা।

সরেজমিন দেখা যায়, টার্মিনালের মূল ভবনের সামনে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অপেমাণ করে অধিকাংশ চেয়ার নেই, দরজা-জানালা ভাঙা, দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভবনের বিভিন্ন কে যানবাহন মেরামতের সরঞ্জাম রাখা হয়েছে। আশপাশে জমে আছে ময়লা-আবর্জনা ও পানি। টার্মিনাল ঘিরে গড়ে ওঠা অধিকাংশ দোকান চালু করাই হয়নি।

স্থানীয় বাসমালিক ও শ্রমিকেরা জানান, শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে হওয়ায় যাত্রীসংখ্যা কম এবং যাতায়াত সুবিধা না থাকায় বাসগুলো সেখানে নিতে মালিকেরা আগ্রহী নন। অতীতে কয়েক দফা চালুর উদ্যোগ নেয়া হলেও তা স্থায়ী হয়নি। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় অল্প কিছুদিন টার্মিনাল চালু থাকলেও এক-দুই মাসের মধ্যে তা আবার বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমানে পৌরসভার বন্দোবস্তে শহরের মুরগির ফার্ম এলাকায় বাস পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি বাস থেকে ৫০ টাকা করে পার্কিং ফি নেয়া হয়। জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ পৌরসভার কাছ থেকে ২৭ লাখ ৩৬ হাজার ২৫০ টাকায় বাস টার্মিনাল ব্যবহারের বন্দোবস্ত নিলেও সেটি কার্যকর হয়নি।

রাজবাড়ী রেড ক্রিসেন্টের সদস্য ও বিএনপি নেতা কাজী জিসান আহমেদ বলেন, অপরিকল্পিতভাবে শহর থেকে দূরে টার্মিনাল নির্মাণ করায় এটি কখনো কার্যকর হয়নি। ফলে বড়পুল ও মুরগির ফার্ম এলাকায় মহাসড়কের ওপর যাত্রী ওঠানামা করতে হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার ভৌমিক বলেন, তাদের প্রত্যাশা টার্মিনালটি কার্যকরভাবে চালু করা হোক, যাতে যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট সবার ভোগান্তি কমে।

রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া জানান, টার্মিনালের এক পাশে এক হাজার আসনের একটি অডিটোরিয়াম এবং অন্য পাশে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এক কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তার অভিযোগ, নামমাত্র ইজারায় টার্মিনাল এলাকা ব্যবহার করে গ্যারেজ পরিচালনা করা হচ্ছে, যা চলতে দেয়া হবে না।

রাজবাড়ী পৌরসভার প্রশাসক কল্যাণ চৌধুরি বলেন, দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকা টার্মিনালের বকেয়া অর্থ ধাপে ধাপে পরিশোধ করা হচ্ছে। অডিটোরিয়াম নির্মাণসহ টার্মিনাল পুনর্ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা চলছে।

দীর্ঘ দিনের অচলাবস্থা, অব্যবস্থাপনা ও আর্থিক জটিলতা কাটিয়ে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালকে আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব পরিবহনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ও যাত্রীরা।