নিজস্ব প্রতিবেদক
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শোক ও ত্যাগের চেতনায় সারা দেশে পবিত্র আশুরা পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, ইমামবাড়া ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মিলাদ, দোয়া মাহফিল, কুরআনখানি, আলোচনা সভা এবং খাবার বিতরণের আয়োজন করা হয়।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ধর্মীয় আলোচনায় বক্তারা বলেন, হিজরি ৬১ সালের ১০ মহররম কারবালার প্রান্তরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা:) ও তার সঙ্গীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে জীবন উৎসর্গ করেন। তাদের এই আত্মত্যাগ ইসলামের ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে এবং যুগে যুগে অন্যায়, জুলুম ও অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের অনুপ্রেরণা যুুগিয়ে আসছে।
এ উপলক্ষে ঐতিহাসিক স্থাপনা হোসেনি দালান ইমামবাড়া থেকে শুক্রবার তাজিয়া মিছিল বের হয়। এ ছাড়াও রাজধানীর অন্যান্য ইমামবাড়াতেও পৃথক তাজিয়া মিছিল, মজলিস ও বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে বড়কাটারা ইমামবাড়া, মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদসংলগ্ন ইমামবাড়া, পুরানা পল্টন ইমামবাড়া ও মগবাজার ইমামবাড়ায়ও দিনব্যাপী কর্মসূচি পালিত হয়।
আশুরা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তাজিয়া মিছিল ও অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নির্বিঘœ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
দিনটি উপলক্ষে অনেক মুসল্লি নফল রোজা পালন করেন এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন। ধর্মীয় নেতারা বলেন, পবিত্র আশুরা কেবল শোকের দিন নয়; এটি সত্য, ন্যায়, ধৈর্য, ত্যাগ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার এক অনন্য প্রেরণার দিন।



